করোনায় প্রবাসীদের চাকরি নিয়ে শঙ্কার মধ্যেই রেকর্ড রেমিট্যান্স আসছে দেশে। চলতি বছরের জুলাইয়ে রেকর্ড রেমিট্যান্সের পর সেপ্টেম্বরেও প্রবাসী আয়ে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। চলতি মাসের মাত্র ১৭ দিনেই দেশে ১৪৩ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে দেশে, যা ২০১৯ সালের পুরো সেপ্টেম্বর মাসের মোট রেমিট্যান্সের ৯৭ শতাংশ। প্রবাসী আয়ে সরকারের নগদ সহায়তা ও করোনার কারণে হুন্ডি প্রায় বন্ধ থাকায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়ছে, যা দেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে অন্যতম ভূমিকা রাখছে।
প্রবাসী আয়ে সরকার ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা ও করোনা সংকটের কারণে অবৈধ হুন্ডি প্রায় বন্ধ থাকায় মে মাস থেকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলারের রেকর্ড রেমিট্যান্স আসে। আগস্টে এই আয় কিছুটা কমলেও তা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। চলতি জুনে দেশে রেমিট্যান্স আসে ১৮৩ কোটি ডলার।
প্রবাসী আয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা সেপ্টেম্বরেও বজায় রয়েছে। চলতি মাসের ১৭ দিনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১৪৩ কোটি ৪৪ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা। চলতি মাস শেষে প্রবাসী আয় ২৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে ধারণা করা হচ্ছে। এটি হলে তা হবে একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
রেমিট্যান্স আয়ের সবচেয়ে বড় অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যে কিছুটা অস্থিতিশীলতা চলছে। জ¦ালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে করোনা সংকটের কারণে সেখানে বাংলাদেশিদের আয়ের উৎস সংকুচিত হয়ে পড়ছে। অনেকেই কাজ হারিয়ে দেশে ফিরছেন। এতে করে রেমিট্যান্সের চলমান প্রবাহে নিম্নমুখী ধারার শঙ্কা রয়েছে। করোনাকালীন সময়ে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ২৭ হাজার শ্রমিক ফিরে এসেছেন। তবে প্রবাসীদের এমন সংকটের মধ্যেই রেমিট্যান্সে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি বজায় রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, চলতি মাসের প্রথম ১৭ দিনে দেশে যে প্রবাসী আয় এসেছে তার এক-তৃতীয়াংশের বেশি এসেছে বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। দেশে প্রবাসী আয়ের বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, যেখানে ইসলামী ব্যাংকের ভালো যোগাযোগ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই ব্যাংকটির মাধ্যমে চলতি মাসের ১৭ দিনে ৫০ কোটি ৯৮ লাখ ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক। এ সময়ে এ ব্যাংকটির মাধ্যমে ১৩ কোটি ৫৬ লাখ ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, রূপালী ও জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে।
২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ১ হাজার ৮২০ কোটি ৪৯ লাখ ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। এটিও বছর হিসাবে রেকর্ড। এর আগে কোনো অর্থবছরে এত রেমিট্যান্স দেশে আসেনি। দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে সৌদি আরব থেকে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ দেশ থেকে মোট ৪০১ কোটি ৫১ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২৪৭ কোটি ডলার। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ সময় রেমিট্যান্স আসে ২৪০ কোটি ডলার। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আরব আমিরাতকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্র।