তিন দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি সাভারে স্কুলছাত্রী নিলার হত্যাকারীরা

সাভারে নিলা রায় (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে হত্যার তিন দিন পার হলেও অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ওই যুবকসহ তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা নারায়ণ রায় বাদী হয়ে হত্যাকারী কিশোর গ্যাং সদস্য মিজানুর রহমান, তার বাবা আবদুর রহমান ও মা আয়েশা সিদ্দিকা নাজমুন নাহারের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত নামাদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এর আগে গত রবিবার রাত ৯ টার দিকে পৌর এলাকার কাজী মোকমা পাড়া মহল্লার আব্দুর রহমানের মালিকানাধীন পরিত্যক্ত বাড়ির ভেতরে ওই ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে ঘটনার তিন দিন পরেও পুলিশ অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং সদস্য মিজানুরকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতা ভিড় করায় আলামত নষ্টেরও আশঙ্কা করেন তারা।

তবে বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে পুলিশের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছায়া তদন্তে নেমেছে সিআইডি।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই সিআইডি পুলিশ ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে হত্যার স্থান ও এর পাশ থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।

সরেজমিনে হত্যার স্থান ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাভার পৌর এলাকার কাজী মোকমাপাড়া এলাকাটিতে মাদকের জমজমাট বেচাকেনার পাশাপাশি বিভিন্ন খালি বাউন্ডারিতে নিয়মিত মাদক সেবন করে থাকে এলাকার উঠতি বয়সী কিশোর, যুবকসহ অনেকেই। আর এসব মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ওই এলাকার কথিত আওয়ামী লীগ নেতা শিরুর ছেলে শাকিল ও সাকিব।

নিহত স্কুলছাত্রীর ভাই অলক রায় জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বখাটে মিজানুর রহমান আমার বোনকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। রবিবার রাতে নিলাকে ডাক্তার দেখিয়ে আসার সময় বখাটে মিজানুর তাকে জোর করে রিকশা থেকে নামিয়ে নিজেদের পরিত্যক্ত বাসায় নিয়ে যায় এবং আমাকে তাড়িয়ে দেয়। অনেকক্ষণ হয়ে গেলেও ও ফিরে না আসায় আমি ওই বাড়ির সামনে গিয়ে দেখি মাদকাসক্ত কিছু যুবক দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। পরে আহত অবস্থায় আমার বোনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের মা মুক্তা রানি বলেন, প্রায়ই মিজানুর বিভিন্ন নম্বর থেকে কল দিয়ে নিলার মোবাইলের ব্লক লিস্ট খুলে দেওয়ার জন্য বলতো ব্লক লিস্ট খুলে দাও তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে তা না হলে তোমার ভাইয়ের ক্ষতি করবে। নিলা ওর অত্যাচার সইতে না পেরে মিজানুরের মাকে ফোন করে বলতো আন্টি আপনার ছেলেটা আমাকে অনেক ডিস্টার্ব করে একটু দেখেন আন্টি। তখন ওর মা বলতো দেখো কি বলব, আমিতো ওকে সামলাতে পারছি না। ও আমার কথা শোনে না অনেক রাগী, বাসায় ভাঙচুর করে তুমি একটু ওর সঙ্গে কথা বলো। তখন নিলা বলতো মিজানুর আমার মা-বাবা ও ভাইকে মারকে বলে হুমকি দেয়, আমাকেও ভয়ভীতি দেখায়। ওর মা বলতো বিষয়টা আমি দেখতাছি। এখন আমার মেয়েকে হত্যা করা হলো আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) নির্মল কুমার দাস বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত দেখে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হতে পারে মনে হওয়ায় ডিএনএ টেস্ট করতে বলা হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পেলেই জানা যাবে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, নিহত নিলা রায় মানিকগঞ্জ জেলার শিংগাইর থানার বালিরটেক গ্রামের নারায়ণ রায়ের মেয়ে। সে পরিবারের সঙ্গে পৌর এলাকার কাজি মোকমাপাড়া মহল্লার শীতল ভিলায় ভাড়া থেকে স্থানীয় অ্যাসেড স্কুলের দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করত। অন্যদিকে অভিযুক্ত বখাটে মিজানুর রহমান চৌধুরী (২২) একই এলাকার টগর ভিলায় ভাড়া থেকে স্থানীয় কলেজেক্সে পড়াশোনা করে।