মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের চিঠি

মিয়ানমার সীমান্তে নতুন করে যাতে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। গত ১৫ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন কর্র্তৃক নিরাপত্তা পরিষদ প্রধানকে দেওয়া হয়। জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। 

ওই চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশকে অবগত না করে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সেনা মোতায়েন, বেসামরিক ট্রলারে করে সৈন্যদের পারাপারের কারণে ভুল বোঝাবুঝি এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে প্রতিকূল ঘটনা ঘটতে পারে। আন্তর্জাতিক সীমানার কাছে মিয়ানমারের গুলিবর্ষণ ও সংঘর্ষের ঘটনাগুলো এ এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। গত কয়েক মাসের ঘটনা উল্লেখ করে সীমান্তে মিয়ানমারের মোতায়েন করা সৈন্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিষয়গুলো জরুরি ভিত্তিতে সদস্য দেশগুলোর নজরে আনতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জুন থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দু’দেশের সীমান্তে ৩৫টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর সীমান্ত সংলগ্ন মংগদু এলাকায় প্রায় এক হাজার সেনার সমাবেশ ঘটায় মিয়ানমার। কোনো ধরনের অভিযান পরিচালনার সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি মিয়ানমারকে স্মরণ করিয়ে দিতে জাতিসংঘকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। তা না হলে এ অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী আশ্রয়ের জন্য সীমান্ত পাড়ি দিতে পারে বলে আশঙ্কা বাংলাদেশের।

গত ৪ জুন মিয়ানমার সেনা ও বর্ডার গার্ড পুলিশ বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছাকাছি এলাকায় যৌথ অভিযান চালায়। বিষয়টি সম্পর্কে বাংলাদেশকে অবহিত করা হয়নি। এ ধরনের ঘটনা সীমান্তে নিরাপত্তার জন্য হুমকি উল্লেখ করে চিঠিতে সীমান্তের কাছে সব ধরনের সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানায় বাংলাদেশ। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে সীমান্তে সৈন্য সমাবেশের প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ।