দেশে কম সময়ে করোনা শনাক্তে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরুর জটিলতা কেটে গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর এখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চেষ্টা করছে যত দ্রুত সম্ভব এ পরীক্ষা শুরু করা যায়। যে কিট দিয়ে এ পরীক্ষা করা হবে, সে কিটগুলোর ভ্যালিডেশন পরীক্ষাও (কোনো ডেটার শুদ্ধতা নির্ণয়) শেষের পথে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই দেশে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হওয়ার কথা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রথম দফায় যে ৩৬ জেলায় করোনা পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই, সেসব জেলায় আগে শুরু হবে। জেলাগুলো হলো ফেনী, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, পাবনা, নাটোর, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নরসিংদী, শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, শেরপুর ও নেত্রকোনা।
এসব জেলার পাশাপাশি দেশের সরকারি আটটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও প্রথম দফায় এ পরীক্ষা শুরু হবে। রাজধানীতে প্রথম শুরু হবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বিশেষ করে এসব হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এবং অস্ত্রোপচারের রোগীদের এ পরীক্ষা করা হবে আগে। পরে অন্যান্য ইনস্টিটিউট হাসপাতালেও অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করা হবে বলে এসব কর্মকর্তা জানান।
এসব কর্মকর্তা আরও জানান, ভ্যালিডেশন পরীক্ষায় দুই কোম্পানির কিট উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাবর্ট কোম্পানি, আরেকটি দক্ষিণ কোরিয়ার। এ দুই কোম্পানির কিটের সেনসিটিভিটি ৮০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ দুই ধরনের কিট কেনার চিন্তাভাবনা করছে।
অবশ্য চলমান আরটিপিসিআর পদ্ধতির পরীক্ষায় ব্যবহৃত কিট কেনা নিয়ে এর আগে নানা ধরনের বিতর্ক দেখা দেওয়ায় এবার আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিট কিনবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এবার ইউনিসেফসহ দেশের দু-তিনটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাকে কিট কিনতে বলেছে। প্রথম দিকে এভাবে কিট কিনেই পরীক্ষা শুরু করতে চায় অধিদপ্তর। এর জন্য এসব সংস্থাকে অধিদপ্তর কিটের চাহিদাও দিয়েছে।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা মোটামুটি প্রস্তুত। কিটের ভ্যালিডেশন টেস্ট প্রায় শেষের পথে। আমরা আগেই কিটগুলো সংগ্রহ করেছিলাম। আরও কিছু কিট সংগ্রহের চেষ্টায় আছি। কিটের ভ্যালিডেশন টেস্ট হয়তো এ সপ্তাহে হয়ে যাবে। আশা করছি আগামী সপ্তাহে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করতে পারব। আর কোনো জটিলতা নেই। কীভাবে টেস্ট করা হবে, এর জন্য আইনকানুন সব তৈরি হয়েছে। এখন শুরু করার অপেক্ষায়।
দেশে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু নিয়ে প্রায় চার মাস ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মধ্যে ঠেলা-ধাক্কা চলছে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির বারবার তাগাদা ও কয়েক দফায় প্রস্তাবনার পরও অনুমোদন মিলছিল না মন্ত্রণালয়ের। অবশেষে গত রবিবার রাতে অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমতি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব বিলকিস বেগম এ সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাব এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অন্তর্বর্তীকালীন গাইডলাইন অনুযায়ী সব সরকারি হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, সরকারি পিসিআর ল্যাব এবং সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে অ্যান্টিজেনভিত্তিক পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, যাচাই-বাছাইয়ের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রক্রিয়াধীন কভিড-১৯ ল্যাব সম্প্রসারণ নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩ জুন করোনা শনাক্তে আরটিপিসিআর পরীক্ষার পাশাপাশি র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করার সুপারিশ করে করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। পরে ২৪ জুন র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি টেস্ট কিটের জন্য একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। পরে জুলাই মাসের মাঝামাঝি বিদেশ থেকে আমদানি এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দুই ভাগে ভাগ করে অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি নীতিমালা তৈরি করা হয়। সে মাসেই করোনার সার্বিক পরীক্ষার ব্যাপারে (অ্যান্টিজেন, অ্যান্টিবডি টেস্টসহ) একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সর্বশেষ ২৪ আগস্ট সরকারি হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরিতে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করার ঘোষণা দেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। পরে গত ৩১ আগস্ট কভিড-১৯ ল্যাবরেটরি সম্প্রসারণ নীতিমালার সুপারিশ পর্যালোচনাক্রমে একটি চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করে আবার স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে পাঠাতে বলা হয়। এর ফলে এ পরীক্ষা শুরু নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অ্যান্টিজেন হচ্ছে ভাইরাসের প্রোটিন, যা শরীরের ভেতর প্রবেশ করে কোষের প্রোটিন তৈরির পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে শুরু করে। শরীরের ভেতর ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, প্যারাসাইটস প্রবেশ করলেই শরীর সেটাকে অ্যান্টিজেন হিসেবে গণ্য করে। কারও পরীক্ষায় অ্যান্টিজেন পাওয়া গেলে তিনি ভাইরাসে আক্রান্ত বলে ধরে নেওয়া হয়। অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় কোনো মেশিনের প্রয়োজন নেই, শুধু কিট দিয়ে দ্রুত সময়ে নির্ণয় সম্ভব। আর অ্যান্টিজেন পরীক্ষা মূল্য সাশ্রয়ী। ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ফল পাওয়া সম্ভব।
অ্যান্টিজেন টেস্টের ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, কোথায় কীভাবে শুরু করতে হবে, সে ব্যাপারে মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিয়েছে। যে ৩৬ জেলায় আরটিপিসিআর মেশিন নেই, সেসব জেলায় প্রথম শুরু করা হবে। পাশাপাশি সরকারি বড় সার্ভিস সেন্টার ও আটটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যেখানে ইমার্জেন্সি সার্ভিস দেওয়া হচ্ছে, সেখানে প্রথম ধাপে শুরু করতে চাই। এরপর বাকি সব জায়গায় করা হবে। তবে আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দেশের সব ইনস্টিটিউট হাসপাতালে শুরু করার জন্য। একসঙ্গে হয়তো সব জায়গায় শুরু করা যাবে না। তবে ধাপে ধাপে করা যাবে।
নমুনা সংগ্রহের ব্যাপারে এ কর্মকর্তা বলেন, নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি একই রকম। এখন যেভাবে আরটিপিসিআর পরীক্ষার ক্ষেত্রে যেভাবে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে, একইভাবে অ্যান্টিজেন টেস্টের ক্ষেত্রেও নমুনা সংগ্রহ করা হবে। যারা নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করবেন, তাদের সুরক্ষা লাগবে। তাদের জন্য পিপিই, মাস্ক, গ্লাভস লাগবে। আমরা সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে।
কিটের ব্যাপারে এ কর্মকর্তা বলেন, দুই-তিনটি কোম্পানির কিট টেস্ট করেছি। আরও দুটি কোম্পানি পাইপলাইনে আছে। প্রাথমিক অবস্থায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এসব কিট কিনবে না। আমাদের উন্নয়ন সংস্থা যেগুলো আছে, তাদের কাছে আমরা আমাদের চাহিদা দিয়েছি। ইউনিসেফসহ আরও দুই-তিনটি সংস্থা তারাই কিনে দেবে। আমরা প্রাথমিক অবস্থা দেখতে চাই। কারণ এসব কেনাকাটা নিয়ে কোনো ঝামেলা হলে পরে নতুন বিতর্ক তৈরি হবে। অধিদপ্তর এর মধ্যে থাকতে চায় না।
আইইডিসিআর যেসব কিটের ভ্যালিডেশন টেস্ট করছে, তার ফল পেলেই অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে হিসেবে কবে নাগাদ ভ্যালিডেশন টেস্ট শেষ হতে পারে জানতে চাইলে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমোদন দিয়েছে। নীতিমালাও তৈরি হয়ে গেছে। মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে পরীক্ষা সংক্রান্ত কিছু টেকনিক্যাল বিষয় জানতে চেয়েছে। আমরাও পাঠিয়েছি। এখন কিটের ভ্যালিডেশন টেস্ট শেষ হলেই নীতিমালা সাপেক্ষে অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করা যাবে। ভ্যালিডেশন টেস্ট হচ্ছে। শেষ হতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে কবে নাগাদ অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করা যাবে, তার সঠিক দিনক্ষণ বলা যাচ্ছে না। কারণ এটা নির্ভর করছে ল্যাবরেটরির ওপর। টেস্ট করার পর বিশ্লেষণ করতে হবে। কীভাবে কিট দিয়ে পরীক্ষা করা হবে, সেটার প্রটোকল তৈরি করতে হবে। তারপর বলতে পারব কবে নাগাদ ফল দিতে পাব।
অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরুর সার্বিক প্রস্তুতির ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, অ্যান্টিজেন টেস্টের কিটের ভ্যালিডেশন কাজ চলছিল। ভ্যালিডেশন হয়ে গেলে কিট কেনাকাটার বিষয়ে যেতে হবে। তারপর শুরু করে দেব। যেসব জায়গায় পিসিআর মেশিন নেই এবং সংক্রমণের মাত্রা বেশি, সেসব জায়গায় আগে করব।
এ কর্মকর্তা বলেন, কবে নাগাদ অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হতে পারে, সে তারিখ বলা খুব কঠিন। কারণ ভ্যালিডেশন রিপোর্ট পুরোটা এখনো পাইনি। কিছুটা আইসিডিডিআর,বি করেছে। এখন আইইডিসিআর করছে। আইইডিসিআর থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর যদি দেখি কিট ভালো, সে কিট কেনা হবে। আমরা একাধিক কিট পরীক্ষা করছি। যেটাতে ভালো ফল আসবে, আমরা সেটা কিনব। বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে কথা বলছি। মাত্র একটা কিটে যেন সীমাবদ্ধ না থাকি, সে ব্যবস্থা করব। আমরা চাইছি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কিট আনা যায়। আমরা আমাদের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে বলেছি কিট দিতে। কোন কিটটা বাংলাদেশের জন্য ভালো হবে, সেটা সব কিটের চূড়ান্ত ফল না পাওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না। সেজন্য কিছুটা দেরি হচ্ছে।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, বর্তমানে আইইডিসিআর তিন ধরনের কিট পরীক্ষা করছে। আরেক কোম্পানির কিট পাইপলাইনে আছে। অ্যান্টিজেন টেস্টের কিট সহজলভ্য নয়। সেনসিটিভিটি ভালো এমন কিট কম। ৮০ শতাংশের নিচে সেনসিটিভিটি হলে আমরা সে কিট নিতে পারব না। এটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আমাদের নীতিমালার মধ্যে রয়েছে। যেগুলোর সেনসিটিভিটি ৮০ শতাংশের মধ্যে শুধু সেগুলোই টেস্টের পর্যায়ে নিচ্ছি। তবে যে দুটি কিট পরীক্ষা করা হয়েছে, সে দুটোর ফল ৮০ শতাংশের মধ্যে এসেছে। এ দুটো হলেই চলবে। এখন আরও কিছু নমুনা পরীক্ষা করে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। এ দুই কিট দিয়ে নমুনা পরীক্ষা করতে কোনো মেশিন লাগবে না এবং কম খরচ। আরেকটি কিট পরীক্ষা করব। ওই কোম্পানি ভ্যালিডেশনের জন্য এখনো কিট দিতে পারেনি। সেটা পেলেই সবগুলোর ফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হবে।