রাঙ্গামাটির তিন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ

এক সেতুতেই দুঃখ ঘুচবে দেড় লাখ মানুষের

উদ্বোধনের অপেক্ষায় রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার চেঙ্গি সেতু। চেঙ্গি নদীর ওপর নির্মিত ৫০০ মিটার দীর্ঘ সেতুটিকে ঘিরেই স্বপ্ন বুনছে তিন উপজেলার দেড় লক্ষাধিক মানুষ। চেঙ্গি সেতু দিয়ে শুধু নানিয়ারচর সদর নয়, সহজেই যাতায়াত করা যাবে লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলায়ও। অথচ আগে নানিয়ারচর সদরে যাওয়ার মতো সরাসরি কোনো সড়ক ছিল না। নৌ-পথে যেতেও দুই ঘণ্টা সময় লাগত। আর সেতুটি চালু হলে এক ঘণ্টারও কম সময়ে যাতায়াত সম্ভব হবে। এ ছাড়াও আগে নানিয়ারচর থেকে খাগড়াছড়ি হয়ে বাঘাইছড়ি ও লংগদুতে যেতে হতো। কিন্তু পার্বত্যাঞ্চলের সবচেয়ে দীর্ঘ এই সেতুটি চালু হলে খুব সহজেই আসা-যাওয়া করতে পারবে ওই তিন উপজেলাবাসী। তবে নানিয়ারচর থেকে লংগদু পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটারের সড়কটি এখনো নির্মাণ না হওয়ায় সুযোগ বঞ্চিত থাকবে লংগদু ও বাঘাইছড়িবাসী।

জানা যায়, রাঙ্গামাটি থেকে নানিয়ারচরের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। নানিয়ারচর থেকে লংগদু সদরের দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার এবং বাঘাইছড়ির দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। রাঙ্গামাটি-নানিয়ারচর-লংগদু-বাঘাইছড়ি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে ১৯৯৩ সালে নানিয়ারচর অংশে চেঙ্গি নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর নানিয়ারচরের চেঙ্গি নদীর ওপর সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এরপর ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শুরু হয় সেতু নির্মাণের কাজ।

নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমা বলেন, ‘চেঙ্গি সেতু চালু হলে আমাদের অনেক দিনের স্বপ্ন পূরণ হবে। এর মাধ্যমে আমরা এখন খুব সহজেই জেলা সদরে যাতায়াত করতে পারব। তা ছাড়া উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণও সহজ হবে। একই সঙ্গে লংগদু ও বাঘাইছড়ি হয়ে খুব সহজেই আমরা সাজেকে যেতে পারব।’

বাঘাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দীন বলেন, খাগড়াছড়ি হয়ে রাঙ্গামাটিতে আসা-যাওয়া সময়সাপেক্ষের ব্যাপার। কিন্তু চেঙ্গি সেতুর মাধ্যমে সেই সমস্যা দূর হচ্ছে। এখন আমরা ঘণ্টা-দেড় ঘণ্টার মধ্যেই রাঙ্গামাটি পৌঁছাতে পারব। তবে বাঘাইছড়ি থেকে লংগদু পর্যন্ত সড়কটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে অধীর আগ্রহে রয়েছি আমরা। কিন্তু সড়কটির কাজ শেষ হয়নি। অসমাপ্ত রয়েছে কিছু সেতুর কাজও। পাশাপাশি রাস্তার কাজও নিম্নমানের।’

সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মনিকো লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার পাল জানান, প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ। অচিরেই সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহে আরেফিন জানান, সড়কটি নির্মাণে সেনাবাহিনীর ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) থেকে একটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হবে।