বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি পেতে জালিয়াতি, আ.লীগ নেত্রী বহিষ্কার

বীরাঙ্গনা হিসেবে নারী মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আবেদন করার অভিযোগে জয়পুরহাট সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আছমা বিবিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেবেকা সুলতানা ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজা মণ্ডল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র হিসেবে ১৯৭১ সালে তার বয়স ৮ বছর ৩ মাস থাকলেও সে সময় নিজেকে ২১ বছরের তরুণী দাবি করে আসছেন জয়পুরহাট সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান আছমা বিবি। বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি চেয়ে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদন করেন তিনি। এরপর সদর উপজেলায় কর্মরত পাঁচ সদস্যের সরকারি নারী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহনাজ সিগমা নির্ধারিত ফরম পূরণ করে ২৪ জুন প্রতিবেদন জমা দেন এবং আছমা বিবিকে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার জন্য সুপারিশ করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে মুক্তিযোদ্ধাসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া ও প্রবাদের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে জয়পুরহাট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজম আলী এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জয়পুরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে একটি অভিযোগ করেন।

অভিযোগকারী আওয়ামী লীগ নেতা আজম আলী বলেন, ‘আবেদনপত্রের সঙ্গে আছমা বিবির যে বয়স, জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জেলা-উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করেছেন সেগুলোতে জাল-জালিয়াতি দেখা যায়। এ জন্য তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডিসি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।’

জানতে চাইলে অভিযুক্ত আছমা বিবি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি ঢাকায় আছি। আমার সব কাগজপত্র সঠিক থাকায় আমি হাইকোর্টে রিট করেছি। আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তা আমি জানি না। আমাকে না জানিয়ে কেন তারা বাদ দিল। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়, মিথ্যা। যা হচ্ছে তা ষড়যন্ত্রমূলক।’

জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলায়মান আলী বলেন, ‘আছমা বিবির জাল-জালিয়াতির তথ্য ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগ আমাদের অবগত করে এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রাথমিক সদস্যপদ ও তাকে তার পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে।’

জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মো. শরীফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইউপি অফিসের নথিতে আছমা বিবির জন্মনিবন্ধন তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, তাদের রেজিস্টারেও কোনো তথ্য নেই বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ইউএনওকে পূর্ণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’