স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের গাড়িচালক আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানা অনিয়মের অভিযোগের কোনো দায় নেবে না অধিদপ্তর। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের দায় নিতান্তই তার ব্যক্তিগত বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গতকাল বুধবার অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোস্তফা খালেদ আহমদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে গাড়িচালক মালেকের বিষয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ অধিদপ্তর গঠিত হয়। অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন সে বছরের ১২ ডিসেম্বর প্রথম মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দেন। পরে গত ১ জানুয়ারি মালেককে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত এই অধিদপ্তরের অধীনে কোনো প্রকার কেনাকাটা, কর্মচারী নিয়োগ, পদায়ন বা পদোন্নতির কাজ করা হয়নি। কাজেই গাড়িচালক মো. আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর বা স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো পরিবহন পুল নেই বলেও জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক মালেককে গত রবিবার অস্ত্র ও জাল টাকাসহ গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তার শতকোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পাওয়ার কথা জানানো হয়। র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, তুরাগের দক্ষিণ কামারপাড়ায় ২টি সাততলা ভবন, একই এলাকায় একটি বিশাল ডেইরি ফার্ম, ধানম-ির হাতিরপুলে সাড়ে ৪ কাঠা জমিতে একটি নির্মাণাধীন ১০তলা ভবন ছাড়াও কলাবাগানসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে মালেকের। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থও জমা আছে তার। এ ঘটনায় র্যাব-১ এর পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যান) আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন। পরে গত সোমবার অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে বাদলের ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
এদিকে গাড়িচালক মালেক গ্রেপ্তারের পর অধিদপ্তরের আরও কিছু কর্মচারীর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আরও পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে কে বা কারা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এরা হলেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রেষণে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে বদলি হওয়া প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াছিন, অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (প্রশাসন) ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ কে এম আজিজুল হক, প্রশাসন শাখার অফিস সহকারী সফিকুল ইসলাম, উচ্চমান সহকারী (চলতি দায়িত্ব) রফিকুল ইসলাম ও বাজেট শাখার উচ্চমান সহকারী আতিকুল ইসলাম।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বদলি, নিয়োগ ও দরপত্র বাণিজ্য করছে এবং এর মাধ্যমে অবৈধভাবে নামে-বেনামে নানা সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তারা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম অব্যাহত রাখে। তাদের অনেককে দুদকে ডাকা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গাড়িচালক মালেকের সঙ্গেও সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তাদের এ ধরনের কর্মকা-ে অধিদপ্তরে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী অতিষ্ঠ বলেও অভিযোগে বলা হয়।