লালমনিরহাটে আবারও বন্যা, পানিবন্দী ২০ হাজার মানুষ

কয়েক দিনের টানা বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটের তিস্তা ও ধরলাসহ ছোট বড় সব কটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে পঞ্চম দফায় বন্যার কবলে পড়েছে সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গে তা কমে বিকেল ৩টায় ব্যারাজ পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে ধরলা নদীর পনি সকাল থেকেই সদর উপজেলার শিমুলবাড়ি পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ কারণে মোগলহাট ইউনিয়নের বুমকা ও ফলিমারী চরের আবাদি জমিসহ বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।  

পানি বৃদ্ধির কারণে লালমনিরহাটের সদর, আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের অন্তত ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া এসব এলাকায় নদী ভাঙন প্রকট আকার ধারণ করেছে।

জেলার সদর উপজেলার মোগলহাট, গোকুন্ডা, তিস্তা, খুনিয়াগাছ, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা, গোবর ধন, নন্ডিমারী, আরাজি ছালাপাক, বারঘরিয়া, চৌরাহা, কালীগঞ্জের কাকিনা, বৈরাতি  এলাকার ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

ভাঙন এলাকা পরিদর্শনের জন্য ২৬ সেপ্টেম্বর পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক (এম,পি) আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচার তিস্তা নদীর বামতীরে পরিদর্শনে আসছেন বলে আদিতমারী উপজেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে ।   

গত কয়েক দিনে তিস্তা ও ধরলা নদীর ভাঙনে এক হাজার বাড়ি-ঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। শুধু আদিতমারী উপজেলায় কয়েক দিনে তিস্তার ভাঙনে মহিষখোঁচা ইউনিয়নের প্রায় ৪ শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আবার নতুন তিস্তার পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এলাকাবাসী পাকা রাস্তাটির ওপর বালু ও মাটি দিয়ে ভরাট করে পানির গতি পথরোধ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

তিস্তার ভাঙনে গত কয়েক দিনে আদিতমারী উপজেলার চৌরাহা গ্রামটি হারিয়ে যেতে বসেছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৪ শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে আবারও ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তিস্তা নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের। এদিকে নদী ভাঙনের শিকার ৩০টি পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়েছে। 

মহিষখোঁচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী বলেন, নতুন করে বন্যায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ টাকা ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। 

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, পানিবন্দী পরিবারগুলোর পাশে প্রশাসনের লোকজন সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।