বাংলাদেশ ব্যাংকের আগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ডের সুদহার অন্য ঋণের সুদের চেয়ে ৫ শতাংশের বেশি হবে না। এ হিসেবে ক্রেডিট কার্ডে সুদহার সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ হতে পারত। তবে বিভিন্ন ব্যাংক এর চেয়ে বেশি হারে সুদ আদায় করত বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আগের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পরিবর্তে অন্য ঋণের সুদের চেয়ে ক্রেডিট কার্ডে ১১ শতাংশ বেশি সুদ নেওয়ার বৈধতা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কোনো ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডে ২০ শতাংশের বেশি সুদ নিতে পারবে না। গতকাল এ-সংক্রান্ত একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণের পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডে সুদ আরোপ শুরু হবে ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময়ের পর। বর্তমানে ব্যাংকগুলো ৪৫ দিন পর্যন্ত ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয়। এ ছাড়া ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমার বিপরীতে ৫০ শতাংশের বেশি নগদ উত্তোলন করা যাবে না বলেও গতকালের নির্দেশনায় বলা হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড নিয়ে নতুন এসব নির্দেশনা দিয়েছে, যা কার্যকর হবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৭ সালের জুলাই মাসে নির্দেশনা দিয়েছিল, ক্রেডিট কার্ডের সুদ অন্য ঋণের সুদের চেয়ে ৫ শতাংশের বেশি হবে না। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ধরনের ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ পর্যন্ত সুদ আদায় করতে পারত। তবে অনেক ব্যাংকই বিভিন্নভাবে এর চেয়ে বেশি সুদ আদায় করত। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০ শতাংশ সুদ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আগস্টে ব্যাংকগুলো যে ঘোষণা দিয়েছে, সেখানেই ২৭ শতাংশ সুদ নির্ধারিত আছে কোনো কোনো ব্যাংকের। আর অধিকাংশ ব্যাংকের সুদহার রয়েছে ২০ থেকে ২৪ শতাংশ। কোনো কোনো ব্যাংক ১৪ শতাংশ সুদের ঘোষণা দিলেও তা নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, ক্রেডিট কার্ডের সুদ অন্য ঋণের সুদের চেয়ে ৫ শতাংশের চেয়ে বেশি হবে না। আর ক্রেডিট কার্ডের সুদহার কেবল অপরিশোধিত বকেয়া স্থিতির ওপর প্রযোজ্য হবে। আর গ্রাহকরা ক্রেডিট কার্ডে নির্ধারিত লিমিটের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ উত্তোলন করতে পারেন, এর বেশি নগদ উত্তোলনের সুযোগ নেই। কিন্তু সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, এসব নির্দেশনা লঙ্ঘন করে কোনো কোনো ব্যাংক বিভিন্ন নামে বিভিন্ন প্রকার নগদে উত্তোলনযোগ্য ঋণসুবিধা প্রদান করছে, যা ব্যাংকের ঋণঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। আবার এ ধরনের ঋণের ওপর অযৌক্তিকভাবে বেশি সুদ আদায় করছে, যা গ্রাহকের স্বার্থ ক্ষুন্ন করছে। আবার কোনো ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের অপরিশোধিত বকেয়া বিলের ওপর লেনদেনের তারিখ থেকেই সুদ আরোপ করছে এবং অপরিশোধিত বিলের বিপরীতে বিলম্ব মাশুল আদায় করছে। এ জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে, সুদহার হবে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ। সুদ আরোপ করা যাবে ঋণ পরিশোধের তারিখ শেষ হওয়ার পর থেকে। বিলম্ব পরিশোধিত ঋণের বিপরীতে শুধু একবার বিলম্ব ফি আদায় করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর ইস্যুকৃত মোট কার্ড রয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ। এর মধ্যে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা ১ কোটি ৯৭ লাখ। আর ক্রেডিট কার্ড ১৬ লাখেরও কম। বাকি ৬ লাখের মতো রয়েছে প্রিপেইড কার্ড।