ওয়াসায় তাকসিমের পুনর্নিয়োগ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে রিট

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে পুনর্নিয়োগ প্রস্তাবের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোরসেদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. তানভীর আহমেদ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদনটি করেন। কার্যতালিকায় এলে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চে এর ওপর শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারীর আইনজীবী।

রিটে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব (পানি সরবরাহ শাখা), ঢাকা ওয়াসা (পক্ষে এমডি) ও ওয়াসার সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকসিম এ খানকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পুনর্নিয়োগের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো সুপারিশ কেন অবৈধ হবে না সেই মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে। একই সঙ্গে ওয়াসা বোর্ডের সভায় প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের যে প্রস্তাব তোলা হয়েছে তাতে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে।

২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে প্রথম নিয়োগ পান তাকসিম এ খান। এরপর চার দফায় তার পদে থাকার মেয়াদ বাড়ে। আগামী ১৪ অক্টোবর পঞ্চমবারের মতো তার পদে থাকার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক নোটিসে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা ওয়াসার বিশেষ বোর্ড সভার (জুম মিটিং) আয়োজন করা হয়। সভার একমাত্র আলোচ্য বিষয় ছিল আরও তিন বছরের জন্য তাকসিম এ খানকে নিয়োগ দিতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব ও সুপারিশ পাঠানো। সভায় তাকসিম এ খান নিজেও অংশ নেন। সভায় ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে তাকসিম এ খানের মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব ও সুপারিশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে ষষ্ঠবারের মতো এ পদে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন তাকসিম এ খান।

ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে প্রক্রিয়ায় তাকসিম এ খান নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন তার পুরোটাই বেআইনি। পুরো প্রক্রিয়াটিকে চ্যালেঞ্জ করেছি। সংবিধানের ২৯ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে সমানাধিকার থাকবে। কিন্তু এখানে সমানাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ ছাড়া ওয়াসার সভা ডাকতে পারেন কেবল চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান। কিন্তু এ দুই পদে বর্তমানে কেউ নেই। এখন যে সভাটি হয়েছে সেটির আইনগত বৈধতার প্রশ্ন উঠেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওয়াসার প্রজ্ঞাপনে বলা আছে, বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ দিতে হবে। কিন্তু এখানে এ বিধানটিও মানা হয়নি। এ ছাড়া এমডি নিয়োগের জন্য একটি যাচাই-বাছাই কমিটি থাকতে হবে। এরপর বোর্ড থেকে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ যাবে। এর কিছুই এ নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিপালিত হয়নি।’