গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর সাহাজউদ্দিন সরকার মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই জালিয়াতির মাধ্যমে আটজন শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওভুক্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষা বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন এ অনিয়ম করেছেন। এ ঘটনায় এক অভিভাবকের লিখিত অভিযোগের পর জেলা শিক্ষা অফিস তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সাহাজউদ্দিন সরকার মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৭০ জন (কলেজ শাখায় ২১ জন) শিক্ষক রয়েছেন। করোনার কারণে গত মার্চে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণার আগে এমপিওভুক্ত ছিলেন ২০ শিক্ষক। বাকিরা খণ্ডকালীন। কিন্তু এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে নতুন করে মুজিবুর রহমান, আশরাফুজ্জামান, দিলরুবা ফেরদৌস, কাজী রশিদা, কাজী মনসুর, আমিনুর রহমান, শফিকুল ইসলাম ও নওরীন জাহান এই ৮ শিক্ষক-কর্মচারীর নাম এমপিওতে আসে। সম্প্রতি একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি এবং অনলাইন ক্লাসের জন্য বিদ্যালয় খোলার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।
নতুন এমপিওভুক্তদের মধ্যে আমিনুর রহমান কলেজ শাখার গণিত ও শফিকুল ইসলাম পদার্থবিজ্ঞানের প্রদর্শক পদে খণ্ডকালীন নিয়োগ পেয়েছিলেন। বাকিদের মধ্যে নওরীন জাহানকে কেউ চেনেন না। অন্য পাঁচজন স্কুল শাখায় খণ্ডকালীন নিয়োজিত ছিলেন।
বিদ্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জানান, বিগত চার বছর পরিচালানা কমিটি নেই। ২০১১ সাল থেকে বিদ্যালয়ের পাঠদানের অনুমতি এবং ২০১২ সাল থেকে মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি নেই। গত ১০ বছরে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়নি। এমপিওর জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা অধিদপ্তরের দুজন প্রতিনিধি, পরিচালনা কমিটির সভাপতির সমন্বয়ে নিয়োগ বোর্ড গঠন, নিয়োগ পরীক্ষা, প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ও পরিচালনা কমিটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক। এসব ছাড়াই ওই আট শিক্ষক-কর্মচারী কীভাবে নিয়োগ এবং এমপিওভুক্ত হলেন, তা তাদের কাছেও বিস্ময়।
এসব শিক্ষক আরও জানান, সরকারি আদেশে ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর থেকে পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। এজন্য পেছনের তারিখে জাল-কাগজপত্র করে অধ্যক্ষ তাদের এমপিও পাইয়ে দিতে উপজেলাা, জেলা ও শিক্ষা অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তা নিয়েছেন। অধ্যক্ষ খণ্ডকালীন শিক্ষকদের থেকে ৫-৬ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। এ ঘটনায় মনির হোসেন নামে এক অভিভাবক গত ১৫ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বিদ্যালয়ের বিদায়ী কমিটির সদস্য গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, ‘২০১৫ ও ২০১৬ মেয়াদের তাদের কমিটিতে একজন শিক্ষককেও বিধি মোতাবেক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এসব কাগজপত্র কীভাবে পেলেন তার তদন্ত হওয়া দরকার।’
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু ওবায়দা আলী বলেন, ‘এসব শিক্ষককে ২০১৫ সালে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় পদ শূন্য না থাকায় তারা এমপিওর আবেদন করতে পারেননি। এখন পদ শূন্য হওয়ায় আটজনের এমপিওর জন্য অধ্যক্ষ গত মার্চের শেষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমার অফিসে জমা দেন। যাচাই শেষে আমি অনুমোদনের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ফাইল পাঠাই।’
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘কাগজপত্র যাচাইয়ের দায়িত্ব উপজেলা শিক্ষা অফিসের। সব কাগজপত্র ঠিক করে অনলাইনে আমার কাছে পাঠানো হয়। আমি এগুলো ঢাকায় ফরোয়ার্ড করি।’ তবে লিখিত অভিযোগ আসার পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জুবাইয়ের সাঈদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।