বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাফসীর আউয়ালকে এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে তৃতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। তাফসীর মাল্টিমোড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। গতকাল বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুদক কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত সাংবাদকিদের তাফসীর বলেন, ‘আমি মনে করি, একটা পারিবারিক ঝামেলার কারণে এখানে আসতে হলো। এ কারণেই আমাকে বারবার ডাকা হচ্ছে। আমার ধারণা, বিষয়টি দুদক জানে না।’
এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর এবং ৩১ আগস্ট দুদক তাফসীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। এরপর গতকাল ফের হাজির হতে বলা হয়। এদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখা-২-এর পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল। কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, নিউ ইয়র্ক ও লন্ডনে একাধিক ব্যাংক হিসাব খুলে নিজের মালিকানাধীন কোম্পানির কোটি কোটি টাকা লেনদেনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদক তাফসীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে তাফসীর বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘আমার সন্দেহ পারিবারিক ঝামেলায় অজান্তেই ঢুকে পড়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টুর দ্বিতীয় ছেলে বিয়ে করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীর মেয়েকে। সম্প্রতি তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে বলে জানা গেছে। এই দম্পতির একটি কন্যাসন্তান আছে। তার অভিভাবকত্ব নিয়ে মা-বাবা দুজনে লন্ডনে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। দুদকের নোটিস পেয়েই লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তাফসীর আউয়াল।
তাফসীর বলেন, ‘আমার পারিবারিক ঝামেলা চলছে লন্ডনে। লন্ডনের আদালত আমাকে অনুমতি দিয়েছিল, ২০ মাস বয়সী ছোট মেয়েটিকে দেখার জন্য। আমি মনে করি, আমাকে এখানে নিয়ে আসা ও দেশে রেখে দেওয়া...যেন মেয়েকে না দেখতে পাই। আমি চাচ্ছিলাম আমার মেয়েকে দেখতে, এখন যদি আবার ডাকে, তবে দেখার সম্ভাবনা থাকবে না। যদি না ডাকে তাহলে আমি মেয়েকে দেখার জন্য (লন্ডন) যাব।’ প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাফসীর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘কমিশনের কর্মকর্তারা আমাকে অনেক বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন, আমি জবাব দিয়েছি। দুদক দুদকের কাজ করে যাচ্ছে। এতে আমার কোনো অসুবিধা নেই।’