বড় ভাই খুন করে কড়াইল বস্তির সেই শিশুটিকে!

রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তির গোসলখানা থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু মিমকে (৪) গলা টিপে হত্যা করেছে তারই বড় ভাই আল আমিন ওরফে সজীব (১৪)। গত বৃহস্পতিবার র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গতকাল সে আদালতে ছোট বোনকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। পরে আদালত জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কিশোর সংশোধনকেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছোট বোন মিমকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ায় আদালত সজীবকে কিশোর সংশোধনকেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। গত বুধবার কড়াইল বস্তির গোসলখানা থেকে মিমের লাশ উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, হত্যার কারণ হিসেবে সজীব জানায়, ছোট বোনের জন্মের পর থেকেই সে তার বাবা-মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত হতে থাকে। বাবা-মায়ের সব ভালোবাসা ওই বোনকে ঘিরেই ছিল। তাই তাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে। বুধবার সকাল ৮টার দিকে সে পাশের মাদ্রাসা থেকে পড়া শেষে বাসায় ফেরে। এ সময় তার বাবা-মা ঘরের বাইরে যান। আর মিম তখন ঘুমিয়ে ছিল। ঘরে বাবা-মা না থাকায় এটাকে মোক্ষম সুযোগ বলে মনে করে সজীব। সে ঘুমন্ত মিমকে গলা টিপে হত্যা করে এবং বিছানার নিচে লুকিয়ে ফেলে। পরে তার বাবা ঘরে ঢুকে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। একপর্যায়ে  উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি বাসার বাইরে খুঁজতে যান। এই সুযোগে সজীব তার বোনের লাশ ঘরের পাশের গোসলখানায় রেখে আসে।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, সজীব স্থানীয় আইডিয়াল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। এর আগে সে নরসিংদীর রায়পুরায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। এরপর বাবা-মায়ের কাছে ঢাকায় চলে আসে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা লিটন মিয়া বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন।

লিটন জানান, বনানী এলাকায় তিনি পেয়ারা ও আমড়া বিক্রি করেন। তার স্ত্রী গৃহকর্মী। ঘটনার দিন সকালে স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে কাজে যান। কিছুক্ষণ পর তিনিও বাইরে যান। ফিরে দেখেন মেয়ে নেই।