আসন্ন শীতে বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ধাপে (সেকেন্ড ওয়েভ) হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকেই মূল চ্যালেঞ্জ মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কভিড হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ ও আইসিইউ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে দ্বিতীয় ধাপে করোনায় মৃত্যু কমানো যাবে না। বিশেষ করে কভিড হাসপাতাল গুটিয়ে নেওয়া কিছুতেই ঠিক হচ্ছে না।
পাশাপাশি টেস্ট বাড়ানো, শনাক্ত রোগীদের আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইন করা না গেলে আসছে শীতে করোনার সংক্রমণ আবার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ এখন বেশিরভাগ মানুষই ভয়ে হাসপাতালে আসছে না। এমনকি করোনার কারণে অন্য সাধারণ রোগের অস্ত্রোপচারও বন্ধ রয়েছে। শীতে করোনার সংক্রমণ বাড়লে করোনা রোগীর পাশাপাশি অন্যান্য সাধারণ রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসাব্যবস্থা বিঘ্নিত হবে। এতে মৃত্যর সংখ্যাও বাড়তে পারে।
অবশ্য সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ দ্বিতীয় ধাপে স্বাস্থ্যবিধিকেই মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। তবে মৃত্যুর সংখ্যাকেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না সরকারি কর্মকর্তারা। তাদের মতে, দ্বিতীয় দফায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাসপাতালে আসা ও মৃত্যুর সংখ্যা কম। তরুণরা দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এখনো বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের মাধ্যমেই বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
দ্বিতীয় দফা করোনা মোকাবিলায় সরকার রোডম্যাপ তৈরি করছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সেটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রোডম্যাপে স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসা গাইডলাইন নতুন করে সাজানো হচ্ছে। গুটিয়ে ফেলা কভিড হাসপাতালগুলো যাতে রোগী বাড়লে দ্রুত চালু করা যায়, সেসব পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় ধাপের করোনা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা একটা রোডম্যাপ তৈরি করছি। এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আমরা বেশিরভাগই জোর দিচ্ছি রোগ প্রতিরোধে। মাস্ক ও হাত ধোয়া ক্যাম্পেইনকে জোরদার করা, এটাকে আরও কীভাবে বাধ্যবাধকতার মধ্যে আনা যায়, সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। দ্বিতীয় হলো প্রথমদিকে না হলেও এখন হাসপাতালগুলো প্রস্তুত হয়েছে। আরেকবার যদি সংক্রমণ দেখা দেয়, সে ক্ষেত্রে কী ধরনের চিকিৎসাব্যবস্থা হতে পারে, সেটা নতুন করে করা হচ্ছে। বেড খালি থাকছে বলে আমরা কিছু কিছু কভিড হাসপাতাল কমাচ্ছি। কিন্তু রোগী যদি বাড়ে, সঙ্গে সঙ্গে যেন এসব হাসপাতাল পুনরায় কভিড হাসপাতালে রূপ দেওয়া যায়, সে ব্যবস্থা রাখছি। চিকিৎসা গাইডলাইন নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। টেলিমেডিসিন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছি। বেশিরভাগ মানুষই এখন টেলিমেডিসিনের ওপর নির্ভর করছে, হাসপাতালে যাচ্ছে না। এখন ৮০ শতাংশের বেশি রোগীর মধ্যে সামান্য উপসর্গ। তাই টেলিমেডিসিনে জোর বেশি দিচ্ছি। অনেকে বাসায় থেকে চিকিৎসাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। টেলিমেডিসিন সেবা যারা দিচ্ছেন, তারা যাতে রোগীদের একটা ভালো প্রেসক্রিপশন দিতে পারে, সেখানেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ কর্মকর্তা বলেন, নতুন করে বেশি কিছু করার নেই। যা আছে সেটাই হবে। তবে এখন মূল চ্যালেঞ্জ মানুষ মাস্ক পরা একদম কমিয়ে দিয়েছে। মানুষের মধ্যে ভয় কমে গেছে। সেকেন্ড ওয়েভ যদি না-ও আসে, তবুও এই স্বাস্থ্যবিধির দিকেই বেশি জোর দিচ্ছি।
এখন যে মৃত্যু হার, সেটার ক্ষেত্রে সেকেন্ড ওয়েভে কী ভাবা হচ্ছে জানতে চাইলে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, মৃত্যু কমাতে আমরা তো এখনই নজর দিয়েছি। আমরা বলছি যাদের বয়স বেশি, অন্যান্য রোগ আছে, তারা যেন কোনোভাবেই বাসায় না থাকে, হাসপাতালে চলে আসে। সামান্য উপসর্গ হলেও তারা যেন বাড়িতে চিকিৎসা না নেয়, হাসপাতালে আসে, সেটা বলছি। কারণ এসব রোগী আগেভাগেই হাসপাতালে এলে জটিলতা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসা দেওয়া যাবে।
বাংলাদেশে শীতকালে, অর্থাৎ অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকে করোনার দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের মানুষের মধ্যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে ‘শৈথিল্যের’ কারণেই এ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সবচেয়ে বেশি। তবে শীতকালে যেহেতু মানুষের শ্বাসযন্ত্রের কোষগুলো দুর্বল হয়ে যায় এবং যেকোনো ভাইরাস প্রতিরোধে এসব কোষের কার্যক্ষমতা কমে আসে, তাই এই ঋতুতে করোনার সংক্রমণের আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রবিবার এক বক্তব্যে শীতকালে করোনা সংক্রমণের হার বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পরে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনুশাসন দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ব্যাপারে করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও জরুরি বৈঠক করে। বৈঠকে দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ ঠেকাতে রোডম্যাপ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি থেকে বলা হয়, প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। বৈদেশিক যোগাযোগ উন্মুক্ত হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে জনসাধারণের মধ্যে একধরনের শৈথিল্য দেখা যাচ্ছে। এসব কারণে বাংলাদেশেও পুনরায় সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে।
দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ প্রতিরোধের পাশাপাশি, সংক্রমণ হলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পরামর্শক কমিটি। এছাড়া দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ দ্রুত নির্ণয় করার জন্যও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কমিটি বলে, যেহেতু জীবিকার স্বার্থে লকডাউন সম্ভব নয়, তাই একটি কার্যকর টিকা না পাওয়া পর্যন্ত নিরাপদ থাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করা, সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাই কভিড-১৯ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়।
দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ দ্রুত নির্ণয়ের জন্য আরও বেশি করে টেস্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছে পরামর্শক কমিটি। এছাড়া জেলাপর্যায়ের হাসপাতালগুলোয় এক্স-রে, রক্তের কিছু পরীক্ষার সম্প্রসারণ করা জরুরি বলে মত দিয়েছে। কমিটি বলেছে, কভিড-১৯-এর নমুনা পরীক্ষার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। সংক্রমিত ব্যক্তিকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইসোলেট করতে হবে।
আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনা মোকাবিলায় এখন যে চ্যালেঞ্জ, সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে একই চ্যালেঞ্জ। এখন যে সংক্রমণ আছে, সেটার হার যদি বেড়ে যায়, তাহলে নতুন করে সংকট দেখা দেবে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার একটা আশঙ্কা আছেই। প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সার্ভিলেন্স। রোগী শনাক্ত করে তাদের কোয়ারেন্টাইন করা। এখন সংক্রমণ কম। সেকেন্ড ওয়েভে সেটা বাড়বে। কোথায় কোথায় বাড়বে, সেটা শনাক্ত করে তাদের আইসোলেট করা। কিট কেনায় যারা আগ্রহী, তারা শুধু টেস্ট বাড়ানোর কথাই বলবে। রোগ নিয়ন্ত্রণে টেস্ট একটা পদ্ধতি। টেস্টের মাধ্যমে রোগীদের শনাক্ত করা, তাদের আইসোলেট করা চিকিৎসার জন্য এবং তাদের সংস্পর্শে যারা গেছেন, তাদের চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইন করাই মূল কাজ।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, সমস্ত জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সাহায্য করা। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে হলে জনগণকে সম্পৃক্ত করে তাদের দিয়েই কার্যকর করতে হবে। এ দুই পদক্ষেপের পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করা মূল চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিভিন্ন হাসপাতালে হার্ট, ব্রেন ও হাড়গোড় ভেঙে যাওয়ার অপারেশন কমে গেছে। হাসপাতালগুলোতে অ্যানেসথেসিয়া বাড়াতে হবে। যেসব আইসিইউ আছে, সেটা কার্যকর করা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করতে হবে। অপরিকল্পিতভাবে ব্যবস্থা নিলে করোনায় মৃত্যু কমানো যাবে না। রোগীর মৃত্যু কমাতে হলে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ রোগী গেলে সঙ্গে সঙ্গে অক্সিজেন দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে অক্সিজেনের অভাবে যেন রোগী মারা না যায়।
ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, বারবার করে বলছি করোনা মোকাবিলার কাজে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রচুর মাঠপর্যায়ের কর্মী আছে। তাদের কাজে লাগানো হচ্ছে না। মাঠপর্যায়ে হাজার হাজার ফ্যামিলি প্ল্যানিং কর্মী আছে। রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবক আছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কর্মী আছে। এদের কাজে লাগাতে হবে। এখানে সরকারকে আর্থিক বিনিয়োগ করতে হবে। এসবের মাধ্যমে রোগটি কমানো গেলে সরকারের আর্থিক সুবিধাগুলো বেড়ে যাবে। স্কুল-কলেজ খোলা যাবে। সবকিছুতেই গতি আসবে।
বিশেষ করে মৃত্যু ঠেকাতে হবে মত দেন ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয় দফায় যেন মৃত্যু না হয় বা কম হয়, সেটা খেয়াল রাখতে হবে। মৃত্যু ঠেকাতে হলে যেসব রোগী শনাক্ত হবে, তাদের ফলোআপে রাখতে হবে। যাতে সংকটাপন্ন হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আনা যায়। হাসপাতালে যেন চিকিৎসা পায়, সেটার জন্য হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা বাড়াতে হবে। অক্সিজেনের অভাবে যেন কেউ হাসপাতালে যেতে ভয় না পায়।
কভিড হাসপাতাল গুটিয়ে ফেলা ঠিক হচ্ছে না বলেও মনে করেন এ বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, কভিড হাসপাতাল গুটিয়ে না ফেলে হাসপাতালগুলোতে নন-কভিড হাসপাতালে রূপান্তর করতে হবে। দ্বিতীয়বার করোনা বাড়লে যাতে এসব হাসপাতালকে দ্রুত কভিড হাসপাতালে পরিণত করা যায়। হাসপাতাল বন্ধ করা যাবে না। এখন তো করোনার ভয়ে অনেকে হাসপাতালে যাচ্ছে না। তাদের আনার ব্যবস্থা করতে হবে। যারা মৃদু আক্রান্ত তাদের কমিউনিটি থেকে এনে রাখতে হবে। হাসপাতাল বন্ধ করা ঠিক হচ্ছে না। এখনো প্রচুর রোগী। তারা ভয়ে হাসপাতালে যাচ্ছে না। জ¦র নিয়ে কাজ করছে। তাদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে আনতে হবে।
তবে দ্বিতীয় দফায় স্বাস্থ্যবিধি মানাকেই বেশি চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে এটার কোনো বিকল্প নেই। যত বেশি স্বাস্থ্যবিধি মানা হবে, তত কম মানুষ আক্রান্ত হবে। আর সেকেন্ড ওয়েভ যে আসবেই তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। শীতকালে যেসব ভাইরাসের কারণে শ্বাসতন্ত্রসহ বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগব্যাধি বেশি হয়, সেসবের সঙ্গে করোনা ভাইরাসের মিল রয়েছে। সেজন্য একটা জটিলতা তৈরি হতে পারে। কিন্তু আসবেই যে, সেটা আমাদের দেশের সঙ্গে মিলে না। কারণ শীত মানে আমাদের দেশে ১৫-১৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা। অন্য দেশে শীত মানে মাইনাস তাপমাত্রা। সেখানে আমাদের মেলে না। তাই শীতের কারণে যে দ্বিতীয় ঢেউ আসবেই, সেটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। কিন্তু শীতে যেহেতু অন্য ভাইরাসগুলো আমাদের শরীর গ্রহণ করে, এটার সঙ্গে যদি করোনা হয়, তাহলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। সেজন্য সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই অফিস-আদালতসহ সব প্রতিষ্ঠানকে শীতে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বেশি গুরুত্ব দিতে হবে মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার ওপর।
এ কর্মকর্তা বলেন, বিশেষ করে তরুণদের বেশি সতর্ক করা হচ্ছে। কারণ এখনো বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণরা বেশি ঘরের বাইরে যাচ্ছে বলে তার পাশে ও বাড়ির লোকজন বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তরুণরা যত বেশি স্বাস্থ্যবিধি মানবে, বয়স্ক লোকজন তত কম আক্রান্ত হবে।
মৃত্যুর ব্যাপারে কী ভাবা হচ্ছে জানতে চাইলে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, বিশ্বে দেখা যাচ্ছে দ্বিতীয় দফায় মৃত্যু ও হাসপাতালে আসার সংখ্যা অনেক কম। প্রথম দিকে ইউরোপ ও আমেরিকাতে মৃত্যু বেশি হয়েছে ওল্ড হোমগুলোতে। ওখানে প্রচুর লোক থাকে। নিউ ইয়র্কে ওল্ড হোমের ৪৩ শতাংশ মানুষ মারাই গেছে। এখন তরুণরাই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। হাসপাতালগুলো এমনভাবে গুটানো হচ্ছে, এক দিনের নোটিসে আবার চালু করা যাবে। আমরা সংকুচিত করেছি, বন্ধ নয়। আবার যদি রোগী বেড়ে যায়, সেটা যাতে খোলা যায় সেভাবেই পরিকল্পনা করা আছে।