যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ যত এগিয়ে আসছে, ততই রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প ও ডেমোক্রেট প্রার্থী বাইডেন তাদের কৌশল খোলাসা করছেন। এবারের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, করোনাভাইরাস ও বর্ণবাদ ইস্যু ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বর্ণবাদ ইস্যুতে ইতিমধ্যেই কুপোকাত ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই বলে পিছু হটার পাত্র নন তিনি। নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ভোট টানতে সম্প্রতি এক পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
কৃষ্ণাঙ্গদের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত করার প্রতিশ্রুতিসংবলিত এই পরিকল্পনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্লাটিনাম প্ল্যান’। গত শুক্রবার আগামী পাঁচ বছরে দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কেমন হতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে দেওয়া পরিকল্পনা ঘোষণায় ট্রাম্প এই প্লাটিনাম প্ল্যান সম্পর্কে জানান। অবশ্য এর আগেই তিনি এমন একটি পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে সিএনএন।
এর আগের নির্বাচনে ট্রাম্পের স্লোগান ছিল মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন। এই স্লোগানকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন ডেমোক্রেটদের বিরুদ্ধে। তার এই মহান আমেরিকা দিয়ে তিনি সেই কলম্বাসের আবিষ্কৃত আমেরিকাকে বুঝিয়ে থাকেন; যা শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যেরই নামান্তর। কালজয়ী ঐতিহাসিক হাওয়ার্ড জিন তার ‘পিপলস হিস্টোরি অব আমেরিকা’য় লিখেছেন কীভাবে আদিবাসীদের ওপর হত্যা-নির্যাতন চালিয়ে, তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করে এই কথিত আমেরিকায় শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য কায়েম করা হয়েছিল আর তার নাম দেওয়া হয়েছিল আমেরিকা আবিষ্কার। সেই শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের রাজনীতির বিপরীতে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী ও শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্থাপন করেছিলেন ট্রাম্প। তাদের মধ্যকার বিভক্তিকে সামনে আনতে চেয়েছেন। কৃষ্ণাঙ্গ আর মুসলিমরা ছিল তার প্রধানতম লক্ষ্যবস্তু। তবে এবারের নির্বাচনে ভিন্নপথ নিতে চাইছেন ট্রাম্প।
সম্প্রতি ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন বলেছেন, নির্বাচনে জয়লাভে তিনি আস্থা রাখছেন কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ওপর। বিপরীতে ট্রাম্পের প্লাটিনাম পরিকল্পনায় কৃষ্ণাঙ্গদের অর্থনীতি শক্তিশালী করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথার অবসান স্মরণে ঘোষিত ‘জুনটিনথ’ দিবসকে কেন্দ্রীয় সরকারের ছুটির দিন ঘোষণার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে এতে। তবে ট্রাম্পের অন্য অনেক প্রতিশ্রুতির মতোই এর বাস্তবায়ন আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট শিবিরের অনেক নেতা।
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের সংগঠন কু ক্লাক্স ক্ল্যানের পাশাপাশি ফ্যাসিবাদ ও বর্ণবাদবিরোধীদের সংগঠন অ্যান্টিফাকে বিচারের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, অ্যান্টিফা সংগঠনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর বিক্ষোভের সময় যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল, তখন অ্যান্টিফার ওপর দায় চাপিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার এমন দাবির পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কোনো প্রমাণ পায়নি। ট্রাম্পের অ্যান্টিফাবিদ্বেষ এতটাই কট্টর যে, তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানলের জন্যও অ্যান্টিফাকে দায়ী করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা অঙ্গরাজ্যে একটি অনুষ্ঠান থেকে প্লাটিনাম প্ল্যানের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। আফ্রিকান-আমেরিকানদের তার ঘোষিত পরিকল্পনার সঙ্গে জো বাইডেনের পরিকল্পনার তুলনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। নতুন এই পরিকল্পনা ঘোষণা করে বাইডেনকে আক্রমণ করেছেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, ৪৭ বছর ধরে কংগ্রেসে রয়েছেন বাইডেন। এ সময়ে তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের ক্ষতি করেছেন। যদিও সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুসারে, কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয় বাইডেন। কিন্তু এই জনপ্রিয়তা নিয়েও বাইডেন আসন্ন নির্বাচনে জয় পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।