দিনাজপুরের পার্বতীপুরে দেয়ালচাপা পড়ে ঘুমন্ত দুই শিশুসহ একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার গভীর রাতে উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ঝাউপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলো স্বপন মিয়া (৩৫), তার স্ত্রী মারজেনা বেগম (২৮) এবং দুই ছেলে হোসেন (৯) ও হাসান (৭)। এ ছাড়া একই দিন সকালে মাগুরা শহরের কলেজপাড়ায় দেয়ালচাপায় রোমান হোসেন (৩০) ও রাসেল (২২) নামে দুই নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, স্বপন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার মদিরামপুর দোলাপাড়া গ্রামের আজাদ মিয়ার ছেলে। পার্বতীপুরের ঝাউপাড়া গ্রামের আব্দুল ছাহাদের মেয়ে মারজেনা বেগমকে বিয়ে করেন স্বপন। পেশায় তিনি ফেরিওয়ালা। শ^শুরের দেওয়া ৬ শতক জমির ওপর একটি মাটির ঘর নির্মাণ করে পরিবারসহ ১৫ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন।
চার দিনের টানা ঝড়ো হাওয়া ও প্রবল বর্ষণে শনিবার রাতের কোনো একসময় ঘরের দেয়াল ধসে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাদের। গতকাল ভোরে ঘটনাটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্বপনের মামা শাহিনুর আলম জানান, রাত আড়াই থেকে ৩টার মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ রাত দেড়টা পর্যন্ত এক প্রতিবেশীর বিয়েবাড়িতে অবস্থান করছিল তারা। গতকাল বিকেলে ঝাউপাড়া গ্রামের ঈদগাহ মাঠ কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি মোখলেছুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ মিথুন মুন্নী জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃতদের স্বজনদের ২০ হাজার টাকা ও পার্বতীপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়।
এদিকে মাগুরা সদর থানার ওসি জয়নাল আবেদীন জানান, রোমান সদর উপজেলার আলিধানী গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে ও রাসেল একই উপজেলার নিজনান্দুয়ালী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। গতকাল সকালে শহরের কলেজপাড়ায় পৌরসভার ড্রেন নির্মাণের কাজ করছিলেন ওই দুজনসহ আরও কয়েকজন শ্রমিক। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রোকেয়া বেগম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ভেঙে কর্মরত শ্রমিকদের ওপর গিয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই রোমানের মৃত্যু হয়। আহত হন অপর তিনজন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুপুরের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাসেলের মৃত্যু হয়। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।