বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ধর্ষণের ঘটনায় ছাত্রলীগের জড়িত থাকার ঘটনা নতুন নয়। আগেও এমন অপকর্ম করেছে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। গতকাল রবিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সিলেট এমসি কলেজ হোস্টেলে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দোষীদের শুধু চিহ্নিত করলেই হবে না, গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। কারও ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই বলেই এমন হচ্ছে।
গত শনিবার বিকেলে দলটির স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে সরকারি দল ‘সুপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার’ চালাচ্ছে।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগের রাতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতা দখল করেছে সরকার। বর্তমানে করোনাভাইরাসের সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের চরম উদাসীনতায় লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, হাজারও মানুষ ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য প্রাণ হারাচ্ছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারি দলের লুটেরাদের দুর্নীতির কারণে অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে, রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ ও দুর্নীতির কবলে পড়ে দুঃশাসন সৃষ্টি করেছে। এ কারণে তাদের ওপর জনগণের আস্থা শূন্যের কোঠায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত মিথ্যাচারের এক গভীর ষড়যন্ত্র করছে। কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল সরকারের নির্দেশে সম্পূর্ণ বিকৃত, বিকারগ্রস্ত মানসিকতায় তথাকথিত নাটক নামে পরিবেশন তারই একটি অংশ।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সভায় পরিকল্পিত মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য দলের অঙ্গসংগঠনগুলো ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদল, জাসাস, মুক্তিযোদ্ধা দল, সব জেলার বিএনপি ও অঙ্গসমূহ কেন্দ্রীয় নির্দেশ অনুযায়ী কর্মসূচি পালন করবে। একই সঙ্গে সভা, সেমিনার, ওয়েবিনার, ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
তিনি বলেন, পাবনা-৪ আসনে উপনির্বাচন আবারও প্রমাণ করেছে যে এই নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনার যোগ্য নয়। তারা সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। সংবাদ সম্মেলনে এই নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানানো হয়।
আমার ফোনে আড়ি পাতছে সরকার : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আমার ফোনে আড়ি পাতছে সরকার। ফোনে যে কথা হয় তার প্রিন্টের কপি আমি দেখেছি।’ গতকাল রবিবার দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে দলের চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
ফখরুল বলেন, ‘আমি যে ফোনে কথা বলি, এই ফোন ২৪ ঘণ্টা রেকর্ড হয়, ২৪টা ঘণ্টা এবং এটা প্রিন্ট হয়। সেই প্রিন্টের কপি আমি দেখেছি। হ্যাঁ, এটা থেকে কেউ বাদ যাচ্ছে না। এটা কিন্তু সমাজে সমস্ত জায়গায় হয়ে গেছে।’
বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তুলনা করেন ফখরুল। তিনি বলেন, ‘এটা হচ্ছে যে ডিপ স্টেট হলে যেটা হয়, সার্ভিলেন্স। নর্থ কোরিয়ার ‘১৯৮৪’ বলে একটি ছবি আছে। যদি পারেন এটা দেখবেন। কীভাবে সাইকোলজিক্যালি, মেন্টালি এই যে ফিয়ার, এটাকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। যার ফলে সবকিছু প্রতিবাদ থেকে সে বিরত থাকে। আপনারা দেখবেন যে মিসরে এ ঘটনাগুলো ঘটা শুরু করেছে। তারও আগে নর্থ কোরিয়ায় এগুলো চলেছে।’