চলতি বছরের মার্চে লকডাউন শুরুর পর ঘণ্টায় ৯০ কোটি রুপি আয় করেছেন ভারতীয় বিজনেস টাইকুন মুকেশ আম্বানি। এতে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ২ লাখ ৭৭ হাজার ৭০০ কোটি রুপি বেড়ে পৌঁছেছে ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৪০০ কোটি রুপিতে। এমন তথ্যই জানাচ্ছে আইআইএফএল ওয়েলথ হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২০।
সম্প্রতি ভারতের শীর্ষ ধনীর তালিকা তৈরি করেছে হুরুন রিসার্চ। চীনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বৈশি^ক ধনীর তালিকায় একমাত্র ভারতীয় হিসেবে চতুর্থ স্থান দখল করে নিয়েছেন এশিয়ার শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানি। আইআইএফএল ওয়েলথ হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২০ বলছে, গত এক বছরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ কর্ণধারের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৭৩ শতাংশ। তেল, গ্যাস থেকে টেলিকম অনেক ব্যবসা রয়েছে রিলায়েন্সের। করোনাভাইরাস মহামারীর প্রকোপ শুরুর সময় আম্বানির সম্পদের অঙ্ক ২৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপিতে। পরে ফেইসবুক, গুগল, সিলভার লেকের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে জিও ও রিলায়েন্স রিটেইলে তহবিল সংগ্রহ ও কৌশলগত বিনিয়োগের সহায়তায় আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। চার মাসেই তার সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৮৫ শতাংশ। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে লকডাউন থাকা সত্ত্বেও রিলায়েন্সের বাজার মূলধন ছাড়িয়েছে ১০ লাখ কোটি রুপির মাইলফলক। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত যেসব ভারতীয় ধনীর সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার কোটি রুপি বা এর বেশি ছিল তাদের নিয়েই তালিকাটি তৈরি করেছে হুরুন। হুরুন ইন্ডিয়ার ২০২০ সংস্করণে আছেন ৮২৮ ভারতীয়।
হুরুন ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, মুকেশ আম্বানির সম্পদ বৃদ্ধির মূল কারণ তেল, টেলিকম ও খুচরা ব্যবসার বহুমুখিতা। ভারতীয় ধনীর তালিকায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭০০ কোটি রুপির সম্পদ নিয়ে মুকেশের পরেই রয়েছে হিন্দুজা ব্রাদার্স। ১ লাখ ৪১ হাজার ৭০০ কোটি রুপি নিয়ে তৃতীয় শিব নাদার অ্যান্ড ফ্যামিলি। ১ লাখ ৪০ হাজার ২০০ কোটি রুপি নিয়ে চতুর্থ গৌতম আদানি অ্যান্ড ফ্যামিলি। উইপ্রোর কর্ণধার আজিম প্রেমজি ১ লাখ ১৪ হাজার ৪০০ কোটি রুপি নিয়ে অবস্থান করছেন পঞ্চমে।