সৌদিতে চালু হচ্ছে না বিমানের বাণিজ্যিক ফ্লাইট

নানা আলোচনা-আশ্বাসের পরও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি মেলেনি। তবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৯টি বিশেষ ফ্লাইটের অনুমতি মিলেছে। বিমান অনুমতি না পেলেও সৌদি এয়ারলাইনস বাংলাদেশে তাদের বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালাচ্ছে। এ নিয়ে বেবিচক ও বিমান কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। এদিকে করোনা সংকটে দেশে আটকেপড়া কয়েক হাজার সৌদি প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ হচ্ছে আজ বুধবার। সৌদি সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আকামার মেয়াদ ২৪ দিন মেয়াদ বাড়ানো হলেও এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ঢাকায় কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। ঢাকায় সৌদি দূতাবাস অনুমোদিত ভিসা এজেন্সিগুলো এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা না পাওয়ায় সব থমকে রয়েছে। ফলে প্রতিবাদে গতকাল সাউদিয়া এয়ারের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন কয়েকশ’ প্রবাসী। তারা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ভিসা ও আকামার মেয়াদ বাড়ানো না হওয়া পর্যন্ত রাস্তা ছাড়বেন না বলে জানান।

এ বিষয়ে প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদ সাংবাদিকদের জানান, সৌদি প্রবাসীদের ভিসা ও আকামার মেয়াদ বৃদ্ধি সমস্যার সমাধান তার হাতে নেই। কূটনৈতিক তৎপরতাই একমাত্র সমাধান।

সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদির বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান, সিনিয়র সচিব মহিবুল হক, পররাষ্ট্র সচিবসহ অন্য কর্মকর্তারা চেষ্টা করছেন। তারা যে কোনো মূল্যে আটকেপড়া প্রবাসীদের সৌদি আরবে ফিরিয়ে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। এমনকি বিমান যাতে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালাতে পারে সেদিক নিয়েও আলোচনা চালাচ্ছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সৌদি আরবে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সৌদি আরবের সিভিল এভিয়েশনের কাছে অনুমতি চায়। সৌদি এয়ারলাইনসও বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বেবিচকের কাছে অনুমতির আবেদন করে। বেবিচক সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিলেও সৌদি আরব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়নি। আকাশপথ নীতিমালা অনুসারে বাংলাদেশ সৌদি আরব থেকে যে কয়টি ফ্লাইটের অনুমতি দেবে, সৌদি আরবকেও বাংলাদেশে থেকে একই পরিমাণ ফ্লাইটের অনুমতি দিতে হবে। কিন্তু সৌদি আরব রাজি হয়নি। এক পর্যায়ে বেবিচক সৌদি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই নিয়ে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়। ফ্লাইট চালু করতে প্রবাসীরা সৌদি এয়ার ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারের টিকিট কাউন্টারে জড়ো হয়। তারা রাস্তাঘাট অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। পরে দুই দেশের আলোচনা হয়। উভয় দেশ ফ্লাইট চালুর সম্মতি জানায়। কিন্তু বিমানের বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি না দিলেও কয়েকটি বিশেষ ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেয়।

এ প্রসঙ্গে বিমানের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামী ১ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবে বিমানের ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে। এতে আমরা অনেক আশাবাদী হয়ে উঠেছিলাম। কিন্তু পরে জানতে পারি, আগামী মাসে শুধু ৯টি বিশেষ ফ্লাইট চলবে। কোনো বাণিজ্যিক ফ্লাইট নয়। সৌদি এয়ার কিন্তু বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালাচ্ছে। আমরা কবে পাব তাও বলতে পারছি না। শুনেছি সরকার নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে।’ একই কথা বলেছেন বেবিচকের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, করোনার কারণে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করছে না সৌদি আরব। নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাস থেকে হয়তো চালু হতে পারে। মূলত বাংলাদেশে আটকেপড়া প্রবাসীদের ফিরিয়ে নিতে বিশেষ ফ্লাইট চালুর অনুমতি দেয়।   

জানা গেছে, প্রবাসীদের ভিসা ও আকামার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের জন্য ইতিমধ্যে সৌদি সরকার ৩১ ট্রাভেল এজেন্সি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যদিও  প্রবাসীরা দাবি করেন, কিছুতেই এই প্রক্রিয়া মানার মতো নয়। কেননা এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবার আকামার মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হবে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সৌদিয়া দূতাবাসের সামনে গত দুদিন ধরেই প্রবাসীরা ভিড় জমান। তারা আকামা নবায়নের জন্য দূতাবাসে প্রবেশ করতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীদের বাধার মুখে পিছু হটেন। তারা অনুনয় বিনয় করলেও দূতাবাস ভিসা আবেদন নেয়নি। এই সময় নিরাপত্তাকর্মীরা দূতাবাসের অনুমোদিত কিছু ভিসা প্রসেসিং এজেন্সির কাছে যেতে বলা হয়। কিন্তু সেখানে গিয়েও কোনো ধরনের সহায়তা পাননি তারা। তাদের বলা হয়, সৌদি আরব বা ঢাকার দূতাবাস থেকে এখনো এ সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা পাননি তারা। লিটন নামের এক সৌদি প্রবাসী জানান, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সেটা বাড়ানোর কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না তিনি। দূতাবাসে যাওয়ার পর বলা হয়, অনুমোদিত এজেন্সিতে যেতে বলেছে। সেখানেও গিয়ে কোনো কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা জানান, ছুটিতে এসে আটকে পড়া সৌদি আরব প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। যদিও সৌদি আরব আকামার মেয়াদ ২৪ দিন বাড়িয়েছে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর থেকেই প্রবাসীরা সৌদি দূতাবাসে গিয়ে হাজির হন। কিন্তু সৌদি থেকে কোনো নির্দেশনা না আসায় এ বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না। হাশিম নামের এক প্রবাসী জানান, সরকারের কাছ থেকে আকামার মেয়াদ বৃদ্ধি বা শর্ত শিথিল করা, তাদের সৌদি আরব ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা না পেলে রাজপথ ছাড়বেন না তারা।

এ বিষয়ে সৌদি দূতাবাস অনুমোদিত তানজুম কনসালট্যান্সি সার্ভিসের ভিসা কনসালট্যান্ট হাবিব উল্লাহ জানান, গতকালও আমাদের কাছে দূতাবাস থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। যার কারণে আমরা এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু করিনি। মিডল ইস্ট কনসালটেন্সির ভিসা কনসালট্যান্ট মোহাম্মদ শামীম বলেন, সৌদির এখনো কোনো নির্দেশনা নেই ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে। আমরা কোনো প্রবাসীর আবেদন গ্রহণ করছি না। দূতাবাসের নির্দেশনা ছাড়াতো কোনো কাজ করা সম্ভব হবে না।

সাউদিয়া কর্র্তৃপক্ষের একটি নোটিসে বলা হয়েছে, ৪ অক্টোবরের আগে আর টোকেন দেওয়া হচ্ছে না। গতকাল মঙ্গলবার যারা টোকেন পাননি, তাদেরকে আগামী ৪ অক্টোবরের টোকেন দেওয়া হবে। এই সময় পর্যন্ত সৌদিতে যাওয়ার কোনো টিকিট বিক্রি করা হবে না। সৌদি এয়ারলাইনস ছাড়াও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মতিঝিল কার্যালয় থেকে সৌদির টিকিট ইস্যু করা হয়। যেসব প্রবাসী দেশে আসার সময় ১৮ ও ২০ মার্চ জেদ্দা এবং ১৮ ও ১৯ মার্চ রিয়াদের রিটার্ন টিকিট কেটে এসেছিলেন, কেবল তাদের টিকিট ইস্যু করা হয়েছে। জেদ্দা ও রিয়াদে বিশেষ ফ্লাইটের জন্য এসব টিকিট ইস্যু করেছে বিমান।