৯ থেকে ৯০ বছরের কেউই রেহাই পাচ্ছে না : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নারী নির্যাতন বেড়ে গেছে। বর্তমানে দেশে ৯ বছরের শিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের বিরুদ্ধে সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার ‘রামু ট্র্যাজেডি’র ৮ বছর উপলক্ষে বিএনপি সমর্থক হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উদ্যোগে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।

২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বৌদ্ধদের শুভ মধুপূর্ণিমার আগের রাতে রামু-উখিয়া-পটিয়াবাসী বৌদ্ধদের ওপর জঘন্যতম ঘটনা ঘটে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মানুষ বলে মানুষের মন ভাঙা আর মন্দির ভাঙা নাকি এক সমান। তাহলে শিশু বা নারীর ইজ্জতহানি করা একটা মসজিদ ও মন্দির ভাঙার চেয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পাপ বা অন্যায়। এই অন্যায়ের ৮ বছরেও বিচার হয়নি।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘রামু ঘটনা আমার কাছে মনে হয় বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিরই একটা প্রতিফলন। বাংলাদেশে এখন কোনো গণতন্ত্র নেই, সংবিধান নেই। মানুষের কারও সেটা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হোক, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী হোক, ইসলাম ধর্মাবলম্বী হোক কোনো অধিকার এখানে নেই। এককথায় এখন এটা পুরোপুরিভাবে গণতন্ত্রবিহীন একটা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে।’

‘খালেদা জিয়াকে মুক্ত করাই বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য’ এ কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে আমাদের একটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য যিনি গণতন্ত্রের পতাকা তার সমস্ত রাজনৈতিক জীবনে তুলে ধরেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। এরপর গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যিনি নির্বাসিত হয়ে আছেন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘বর্তমানে গণতন্ত্র শব্দটা সংবিধান থেকে প্রত্যাহার হয়ে গেছে। প্রতিস্থাপিত হয়েছে এখানে লুটপাটতন্ত্র আর যৌনতন্ত্র। নারী নির্যাতনের ঘৃণ্যতম অধ্যায় একাত্তরের যুদ্ধে আমরা দেখেছি পাকিস্তানের বর্বরবাহিনীর কাছে।’

সংগঠনের আহ্বায়ক গৌতম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে ও অপলেন্দু দাস অপুর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্তু কুমার কু-, দীপেন দেওয়ান, অপর্ণা রায় দাশ, দেবাশীষ রায় মধু, সুশীল বড়ুয়া, নিপুণ রায় চৌধুরী, তরুণ দে, মিল্টন বৈদ্য প্রমুখ।