আদিতমারী উপজেলা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৫০ ফুট ধস

তিস্তা নদীর বাম তীরে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সলেডি স্পার-২ এর ৫০ফুট ধসে গেছে। স্পার বাঁধটি রক্ষার জন্য বালুর বস্তা ফেলে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন মহিষখোচার মানুষসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন।

সোমবার গভীর রাতে হঠাৎ করেই ধসে পড়তে শুরু করে বাঁধটি। মুহূর্তেই বাঁধটির ৫০ ফুটের মতো অংশ ধসে যায় তিস্তা নদীতে। বাঁধটি ধসে গেলে বাঁধের ভাটিতে অবস্থিত গ্রামগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তিস্তা নদীতে।

তিস্তা নদীর বাম তীরের ভাঙন ও বন্যা হাত থেকে এলাকাটি রক্ষায় ২০০৩-০৪ সালে আদিতমারী উপজেলার গোবর্দ্ধন এলাকায় সলেডি স্পার বাঁধ ২ নির্মাণ করে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড।

গত বছর কিছু অংশে ভাঙন দেখা দিলে চলতি বছরে সেটি সংস্কার শুরু করে। সেই সংস্কার কাজ শেষ হতে না হতেই সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে তিস্তায় পানি কমে যাওয়ায় হঠাৎ করেই ভাঙনের কবলে পড়ে বাঁধটি।

স্থানীয়রা রাতেই মসজিদের মাইকে মাইকিং করে গ্রামবাসী জড়ো হয়ে নিজেদের বসতবাড়িতে থাকা বস্তায় বালু ফেলে বাঁধ রক্ষায় কাজ শুরু করেন। অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই বাঁধটির ৫০ ফুট নদী গর্ভে ধসে পড়ে। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ৫’শ জিওব্যাগ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের মাধ্যমে রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বাঁধটি রক্ষায় ব্যর্থ হলে ভাটিতে থাকা কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার বসতভিটা তিস্তা নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নদী পাড়ে মানুষগুলো।

এদিকে বাঁধটি রক্ষায় সহায়তা করতে এবং বিলীন হলে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে ঘটনাস্থলে প্রস্তুত করা হয়েছে আদিতমারী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের সঙ্গে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে কথা হলে তিনি বলেন, হঠাৎ করেই বাঁধটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

বাঁধটি রক্ষার্থে এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগে বালু ভর্তি করে ধসে যাওয়া স্থানটি ফেলছে।

স্থানীয় মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মতিয়ার রহমান মতি বলেন, রাতে হঠাৎ করে বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। মসজিদের মাইকিং করে ডাকা হলে গ্রামবাসী নিজের বাড়ির সংগৃহীত বস্তা নিয়ে বালু ভর্তি করে ভাঙা জায়গায় ফেলতে শুরু করে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও গ্রামবাসীর সহায়তায় বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, যে কোনো উপায়েই হোক না কেন বাঁধটি রক্ষা করতে হবে। নইলে এই ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা তিস্তা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, সলেডি স্পার বাঁধটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে কাজ করে যাচ্ছেন।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বলেন, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদের নির্দেশনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ধসে পড়া বাঁধের অংশ মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যে কোনো মূল্যে বাঁধটি রক্ষা করতে হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সেটি করা না গেলে বাঁধের ভাটিতে থাকা বাড়িঘর তিস্তা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।