শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, চিনিকলগুলো বন্ধ কিংবা শ্রমিক ছাঁটাই করা হবে না। বরং চিনিকলগুলোকে আধুনিকায়ন ও বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করে এগুলোকে লাভজনক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নতুন কর্মসংস্থান বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এ জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় শুরু থেকে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের পাশে জেলার বোদা উপজেলার আরাজি গাইঘাটা (ধনিপাড়া) নামক স্থানে গোডাউন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, জনবান্ধব, কৃষিবান্ধব বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে ইউরিয়া সার সরবরাহ ও নিরাপদ মজুত নিশ্চিতকরণে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ১৩টি নতুন সারের বাফার গোডাউন নির্মাণ করছে। এর মধ্যে পঞ্চগড়ে একটি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির অবদান অনস্বীকার্য। তাই কৃষক বান্ধব বর্তমান সরকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিয়ে কৃষি উপকরণ কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করেছে। কৃষি উৎপাদনে ইউরিয়া সার অন্যতম প্রধান উপকরণ। দেশে বছরে কমপক্ষে ২৫ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৬০% থেকে ৭০% বিদেশ থেকে আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়। দেশে ইউরিয়া সার উৎপাদন, আমদানি ও বিতরণের দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআিইসি)।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত ২৫টি বাফার গোডাউন থেকে ডিলারদের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষকদের মাঝে ইউরিয়া সরবরাহ করা হয়ে থাকে। বর্তমানে কারখানা ও সকল বাফার গোডাউনের ধারণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ ৩ লাখ মে. টন। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ‘সার সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩ (তের)টি বাফার গোডাউন নির্মাণ’ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি গুদামের ধারণক্ষমতা ১০,০০০ মেট্রিকটন হিসেবে এই প্রকল্পের আওতায় ১৩ (তের)টি বাফার গোডাউন নির্মাণ সমাপ্ত হলে এক লাখ ত্রিশ হাজার মেট্রিকটন সার মজুত করা যাবে। এ প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ছয়শ কোটি ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৭ সালের জানুয়ারি হতে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের নির্মাণকাজ করছে সেনা কল্যাণ সংস্থা।
শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ইউরিয়া সারের মজুত ও সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য বিসিআইসি কর্তৃক দেশে আরও ৩৪টি গুদাম নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলোর ধারণ ক্ষমতা ৫ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। এসব প্রকল্প সমাপ্ত হলে আশা করা যায় দেশে সার সংরক্ষণের সমস্যা থাকবে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন এমপি বলেন, আগামী ১৫ অক্টোবর পঞ্চগড়-রাজশাহী নতুন ট্রেন চালু হবে। এটা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনে দাবি ছিল।
নতুন নতুন শিল্প গড়ে তোলার বিকল্প নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কৃষিকে টেকসই করতে হলে কৃষি শিল্প সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ১৩টি বাফার গোডাউন নির্মাণ প্রকল্প আয়োজিত জেলা প্রশাসক ড. সাবিনা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজাহারুল হক প্রধান, বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল হান্নান শেখ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ জেলা উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও বিসিআইসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শেরপুর, যশোর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, রাজবাড়ী, পাবনা, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, গোপালগঞ্জ, বরিশাল ও সুনামগঞ্জ জেলায় ১০,০০০ মে. টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ১৩ (তের)টি বাফার গোডাউন নির্মিত হচ্ছে। পঞ্চগড় ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোডাউন নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে নির্মাণকাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেও বর্তমানে এই প্রকল্পের বাকি ১১টি গোডাউনের নির্মাণকাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেরপুর, গাইবান্ধা, যশোর এবং ২০২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নীলফামারী, মার্চের মধ্যে নেত্রকোনা, পাবনা, কিশোরগঞ্জ, মের মধ্যে বরিশাল, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী এবং জুনের মধ্যে সুনামগঞ্জ গোডাউনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।