গাইবান্ধায় চার লেন সড়ক

নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই চলছে স্থাপনা ভাঙার কাজ

গাইবান্ধা জেলা শহরে কোনো ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই চলছে ডিবি রোডের চার লেন তৈরির কাজ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়কের দুই পাশে থাকা স্থাপনা ভাঙা ও সরানোর কাজ করছেন শ্রমিকরা। এতে হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা। ঘটছে প্রাণহানির ঘটনাও। শুধু তা-ই নয়, স্থাপনা ভাঙা ও সরানোর সময় দোকানমালিকদের বলা হলেও এড়িয়ে যাচ্ছেন তারা। অথচ বিষয়টি নিয়ে কারোরই যেন মাথাব্যথা নেই। জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে বলা হলেও অনেকটা ‘দায়সারা’ বক্তব্য দিচ্ছেন তারা। তাদের ভাষ্য, স্থাপনা ভাঙা ও সরানোর কাজে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দোকানমালিকদের। সম্প্রতি নির্মাণাধীন সড়কটি সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়েছে।

গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলা শহরের বড় মসজিদ থেকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার চার লেন সড়ক নির্মাণ করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় সড়কের দুপাশে অধিগ্রহণ করা জায়গা থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে দোকানমালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী নিজ দায়িত্বে শ্রমিক দিয়ে স্থাপনা ভাঙা ও সরানোর কাজ করছেন সবাই। এ কাজে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট স্থাপনার মালিকদের।

গত শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্দেশনার পর সড়কের দুপাশে অধিগ্রহণ করা জায়গা থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছেন দোকানমালিকরা। কিন্তু স্থাপনা ভাঙার সময় দু-একটি ছাড়া কোথাও নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। ফলে দুর্ঘটনায় ঘটছে প্রাণহানি। নিরাপত্তাব্যবস্থা না নেওয়ায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে পাকা দোকান ঘরের বিম চাপায় আজাদ মিয়া ও আবদুল ওয়াহেদ আলী নামে দুজনের মৃত্যু হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভবন ভাঙা ও সরানোর সময় কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় মালিককে বলেছিলাম ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু আমাকে ধমকে থামিয়ে দিয়েছেন তিনি। ফলে ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। কী করব, কাজ না করলে যে ভাতের জোগাড় হবে না।’

গাইবান্ধা সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘দুর্ঘটনার জন্য সওজ বিভাগ দায়ী নয়। দোকানমালিকরা নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছেন। শ্রমিক দিয়ে ভবন ভাঙছেন। তাদেরই সতর্কতার সঙ্গে কাজ করা উচিত ছিল।’

একই মন্তব্য গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিনেরও। তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনায় জেলা প্রশাসন দায়ী নয়। স্থপনা ভাঙা ও সরানোর কাজে দোকানমালিক-শ্রমিকদেরই সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত ছিল। কিন্তু তারা তা করেননি।’