ছক্কা হাঁকালেন তাকসিম ফজলুল্লাহর বাউন্ডারি

আরও তিন বছরের জন্য ঢাকা ওয়াসায় তাকসিম এ খান ও চট্টগ্রাম ওয়াসায় এ কে এম ফজলুল্লাহ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ সাঈদ উর রহমান স্বাক্ষরিত তাদের নিয়োগসংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। এ নিয়ে তাকসিম ষষ্ঠবার এবং ফজলুল্লাহ চতুর্থবার নিয়োগ পেলেন।

আদেশে বলা হয়, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্র্তৃপক্ষ, আইন ১৯৯৬-এর (২৮) ২ ধারা মোতাবেক প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে তার বর্তমান চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর থেকে তিন বছরের জন্য ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। আরেকটি আদেশে একইভাবে তিন বছরের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি পদে প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে গতকাল রাতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পানি সরবরাহ অনুবিভাগ) মোহাম্মদ ইবরাহিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার ঢাকা ও চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি পদে পূর্বের দুজনকে আরও তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছে।’

ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে তাকসিম এ খান প্রথম নিয়োগ পান ২০০৯ সালের ১৩ অক্টোবর। সংস্থাটির সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর এ ব্যক্তি প্রায় ১১ বছর ধরে এ পদে কর্মরত। জানা গেছে, সংস্থাটি এমডি নিয়োগে যেসব শর্ত ও অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল সেগুলোর কোনোটিই প্রথমবার তাকসিমের ছিল না। এরপরও ঢাকা ওয়াসার তৎকালীন বোর্ড নানা বিতর্কের জন্ম দিয়ে তাকে নিয়োগ দেয়। প্রথম দফা দায়িত্ব পালন শেষে ২০১২ সালের ১৩ অক্টোবর তাকসিমকে এমডি হিসেবে ফের এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় ওয়াসা বিধিবদ্ধ আইনকে পাস কাটিয়ে তাকে চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ২০১৩ সালের ১৩ অক্টোবর সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর আবারও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কোনো ধরনের বিজ্ঞপ্তি এবং পরীক্ষা ছাড়াই তাকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৭ সালের অক্টোবরে পঞ্চমবারের মতো এমডি পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে তাকসিম বর্তমানে কর্মরত আছেন। আগামী ১৪ অক্টোবর শেষ হবে তার মেয়াদ।

জানা গেছে, এবারও অনেকটা নিজের ইচ্ছেমতো বোর্ড বসিয়ে তিন বছরের জন্য নিয়োগের প্রস্তাব পাস করিয়ে নেন তাকসিম। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই গতকাল তাকে আরও তিন বছরের জন্য দিয়োগ দেয় সরকার। এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো নিয়োগ পেলেন এ ক্ষমতাধর প্রকৌশলী। যদিও তাকসিম এ খানের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা ওয়াসায় তাকসিমকে নিয়োগ দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

এদিকে প্রায় ১০ বছর ধরে চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি পদে আছেন এ কে এম ফজলুল্লাহ। তিনিও তিন দফা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাগিয়ে নিয়েছেন। গতকাল এ প্রকৌশলীকে চতুর্থবারের মতো আরও তিন বছরের জন্য সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। জানা গেছে, ছাত্রজীবনে জাসদের সক্রিয় কর্মী থাকলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি সুদৃষ্টিতে আসেন। তিনি ১৯৬৮ সালে ওয়াসার চাকরিতে যোগ দেন। পরে ১৯৯৮ সালে পূর্ণ মেয়াদ শেষ করে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে অবসরে যান। ওয়াসায় চাকরিকালেও সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এ প্রকৌশলী শীর্ষ পদে বসে আত্মীয়স্বজনকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া ও বোর্ডকে উপেক্ষা করে প্রকল্প নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদ উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাউকে নিয়োগ দেননি বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।