এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ

আদালতে সাইফুর অর্জুন ও রবিউলের স্বীকারোক্তি

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দল বেঁধে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামিসহ ৩ আসামি ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আদালতের বিচারক জিয়াদুর রহমান তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানান।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামিরা হলো মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান (২৮), ৪ নম্বর আসামি অর্জুন লস্কর (২৫) ও ৫ নম্বর আসামি রবিউল ইসলাম (২৫)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মামলায় গ্রেপ্তার ৮ আসামির সবাই রিমান্ডে রয়েছে। এর মধ্যে গত সোমবার রিমান্ডে নেওয়া আসামি সাইফুর, অর্জুন ও রবিউলকে গতকাল বিকেলে আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে এই তিনজন ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবে বলে জানায়। এরপর আজ (শুক্রবার) বিকেলে আদালতে হাজির করার পর প্রথমে অর্জুন, এরপর সাইফুর এবং সবশেষে রবিউল জবানবন্দি প্রদান করে।’

গত ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমার এক নবদম্পতিকে এমসি কলেজের প্রধান ফটক থেকে জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রাবাসে নেওয়া হয়। এরপর স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গাড়ির ভেতরে ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতিত গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে পরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় ছয় আসামির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দু-তিনজনকে আসামি করা হয়।

মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলো বালাগঞ্জের  চান্দাইপাড়া গ্রামের তাহিদ মিয়ার ছেলে সাইফুর রহমান (২৮), সুনামগঞ্জ সদরের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), হবিগঞ্জ সদরের বাগুনিপাড়ার জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে মাহবুবুর রহমান রনি (২৫),  জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৫), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম (২৫) ও কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫)। মামলার আসামিরা ছাত্রলীগের ‘সক্রিয়কর্মী’ বলে পুলিশ ও দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। মামলার এজাহারনামীয় ছয় আসামিসহ আটজনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলো আইনুদ্দিন ও রাজন মিয়া।