রোহিঙ্গা সংকট সমাধান

প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি : ফখরুল

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের কোনো নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে অগ্রাধিকার বিষয় হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা সমাধান। সরকারের সামগ্রিক কার্যকলাপ বিবেচনায় এ ধরনের অগ্রাধিকার সর্বত্রই অনুপস্থিত। এর বড় প্রমাণ হচ্ছে, এখন পর্যন্ত এই সমস্যার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী কোনো বিশ্বনেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি, বিশ্ব সফর করেননি এবং জাতিসংঘে সেইভাবে গুরুত্বসহকারে বিষয়টাকে তুলে ধরতে পারেননি।

তিনি বলেন, সীমান্তে মিয়ানমারের সেনা সমাবেশ বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাছাড়া বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ও মিয়ায়নমারের রাখাইনে আবদ্ধ রোহিঙ্গাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তাদের এ অনাকাক্ষিত সেনা তৎপরতা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি রক্তচক্ষুর বার্তার সমতুল্য। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে ইতিমধ্যে আমরা সবাই অবগত যে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে গত ১১ সেপ্টেম্বর ভোর থেকে মাছ ধরার ট্রলারে করে মিয়ানমারের সেনাদের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ করা গেছে। অন্তত তিনটি পয়েন্টে সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার সৈন্যদের উপস্থিত হতে দেখা গেছে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে গণহত্যা শুরুর সময় মিয়ানমার সেনাবাহিনী ঠিক একইভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সৈন্য সমাবেশ করেছিল। ফলে ১১ সেপ্টেম্বর ভোরে শুরু হওয়া সেনা সমাবেশের কারণে রাখাইনে এখন যেসব রোহিঙ্গা রয়েছেন, তাদের মধ্যে নতুন করে ভীতি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

‘খালেদা জিয়ার ব্রিটিশ ভিসা পাওয়ার বিষয়ে কোনো বাধা নেই’ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসনের এই বক্তব্যের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ব্রিটেন এখনো একটি গণতান্ত্রিক দেশ। তাদের মধ্যে সভ্যতা, ভদ্রতা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে যথেষ্ট বেশি আছে। তারা একটা গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে, একজন গণতান্ত্রিক নেতার প্রতি যে দায়িত্ব সেই কথাটিই বলেছেন। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।

খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম যেমন ছিলেন, তেমনই আছেন। তার শারীরিক অবস্থা সবাই জানেন। খুব একটা উন্নতি হয়নি। ওনার আবার সমস্যা হয়েছে। খেতে পারছেন না। এ বিষয়টা খালেদা জিয়ার চাওয়া এবং সরকারের দেওয়ার ওপর নির্ভর করছে। খালেদা জিয়া যদি যেতে চান, সেটা যদি পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বলা হয়, সরকার যদি যেতে দেয়, তাহলে তো উনি যেতে পারবেন, না হলে তো পারবেন না। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত খালেদা জিয়া কিছু বলেননি। পরিবারে পক্ষ থেকেও কিছু বলা হয়নি।’

আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও ধর্ষণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এ বিষয়গুলো যখন পত্রপত্রিকা, চ্যানেলে আসে, আমরা কথা বলি তখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুন্দর করে বলেন, এরা তো আওয়ামী লীগের লোক না। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি খুব কম কথা বলেন, সুন্দরভাবে কথা বলেন, তিনিও গত বৃহস্পতিবার বলেছেন যে, বাংলাদেশে যে ধর্ষণের ঘটনাগুলো ঘটছে, এটা সারা পৃথিবীতেই ঘটছে। এটা কোনো উত্তর হতে পারে না।