বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকেই এখনো আছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবকে বলব ১৯৯১ সালের পর বিএনপি দু’দফায় ১০ বছর ক্ষমতায় ছিল। তাদের সময়ে যে রোহিঙ্গারা এসেছিল তাদেরকে তারা ফেরত পাঠাতে পারেননি। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি শিরীষতলায় ‘তিলোত্তমা চট্টগ্রাম’ আয়োজিত মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৫ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠিকমতো হচ্ছে না বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এ অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছিলেন। সেখানে যে বর্বরতা চলছিল সেই বর্বরতার হাত থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা রক্ষা পেয়েছে। এতে সমগ্র পৃথিবী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যম প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাদার অব হিউমিনিটি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। যেখানে সমগ্র পৃথিবী প্রশংসা করছে সেখানে বিএনপি প্রশংসা করতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই ওআইসির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার হচ্ছে। আমাদের সরকার কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে নয়, কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে এবং আন্তর্জাতিক মহল থেকে চাপের মাধ্যমে, কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে চায়, আমরা সেই পথেই হাঁটছি। এতে ইতিমধ্যে অনেক সফলতা এসেছে।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আদালত থেকে মিয়ানমারকে সমন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অনেককে বিচারের আওতায় আনতে বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালত থেকে তিরস্কারের মতোই করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশেরই কূটনৈতিক তৎপরতার সফলতা।’
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশে আসার পর ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি বৃক্ষরোপণকে আন্দোলনে রূপান্তর করার উদ্দেশ্যে কৃষক লীগের মাধ্যমে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করেছিলেন। ’৯৬ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর বৃক্ষরোপণকে পরিপূর্ণভাবে একটি আন্দোলনে রূপান্তর করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। এই আন্দোলনের পেছনে তিলোত্তমা চট্টগ্রামের মতো সামাজিক সংগঠনগুলোর বিরাট অবদান রয়েছে।’
আয়োজক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাহেলা আবেদীন রীমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক, সিএমপির উপকমিশনার বিজয় বসাক, সাংবাদিক ওসমান গণি মনসুর, সিপিডিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার সোহাগ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ প্রমুখ।