রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নির্দিষ্ট সময়ে সেতুর মূল অবকাঠামো তৈরি হলেও সেতুতে ওঠানামা করার সংযোগ (অ্যাপ্রোচ সড়ক ও গাইডওয়াল) নির্মাণ করা হয়নি। এ অবস্থায় জন্য চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে আশপাশের হাজারো বাসিন্দারা। আর ঝুঁকি নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ ওই সেতু দিয়ে চলছে যানবাহন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুতে উঠতে বেগ পেতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহনের। নির্মাণাধীন সেতুর দুই পাশে এখনও সংযোগ সড়ক না হওয়ায় অনেক ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনের ওঠানামা করতে হচ্ছে। সেতুটি অনেক খাড়া হওয়ায় যানবাহন থেকে যাত্রী নামিয়ে ঠেলে ওপরে তুলতে হচ্ছে।
জানা গেছে, গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ কাটাখালী ভায়া তেনাপচা আশ্রয়ণকেন্দ্র সড়কের তেনাপচা এলাকা কয়েক বছর আগে বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে গেলে সে স্থানে পল্লি সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ৪০ মিটার একটি সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ৮ জানুয়ারি। শেষ হওয়ার কথা ছিল।
২০২০ সালের ৭ জানুয়ারি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফরিদপুরের মেসার্স কামারজানি ট্রেডার্স। তাদের কাছ থেকে সাব কন্ট্রাক্ট নিয়ে কাজটি করেছেন গায়োলন্দের ঠিকাদার সালাহউদ্দিন চৌধুরী। সেতু নির্মাণের চুক্তি মূল্য ২ কোটি ৯৪ লাখ ২১ হাজার ৫২৬ টাকা।
এদিকে সেতুটির নির্মাণকাজ যথাসময়ে শেষ না হওয়া অবস্থায় দেশে শুরু হয় করোনা আতঙ্ক। এরপর বন্যা শুরু হয়ে যাওয়ায় নির্মাণ কাজ দীর্ঘ সময় বন্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যে সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশে ৩০ মিটার করে সংযোগ সড়ক ও গাইডওয়াল নির্মাণ কাজ বাকি আছে। এ অবস্থায় বন্যায় সংযোগ সড়কের জায়গায় আরও বেশকিছু অংশ ধসে গেছে। ওই অবস্থার মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।
স্থানীয় মাহিন্দ্র চালক সাদ্দাম, নছিমন চালক সজিব শেখ, মুক্তার শেখ, রিকশাচালক মাসুদ শেখসহ অনেকেই জানান, গোয়ালন্দ পৌর জামতলা থেকে রাজবাড়ী গামী বেড়িবাঁধ সড়কটিতে নির্মাণ কাজ চলায় এবং অতিমাত্রায় জরাজীর্ণ হওয়ায় কাটাখালীর এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন যাত্রী ও মালবাহী শতশত যানবাহন চলছে। কিন্তু নির্মাণাধীন সেতুর দুই পাশে এখনও সংযোগ সড়ক না হওয়ায় অনেক ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হচ্ছে ফলে প্রায়ই রিক্সা ভ্যান উল্টে যায় । তাই এর দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া দরকার।
সেতুটির সাব কন্ট্রাক্টর সালাহউদ্দিন চৌধুরী জানান, করোনা ও বন্যার কারণে যথাসময়ে নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। বন্যায় ব্রিজটির চুক্তির বাইরেও রাস্তার অনেকটা অংশ ক্ষতি হয়েছে। বস্তা ফেলে কোনোমতে ছোটোখাটো যানবাহন ও মানুষ চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়াননোর আবেদন করেছেন তিনি। এর মধ্যেই গাইডওয়ালসহ সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ করার চেষ্টা করবেন বলে তিনি জানান।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশলী বজলুর রহমান খান জানান, এখনও সেখানে বন্যার পানি আছে। পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত অংশসই ব্রিজের সংযোগ সড়ক ও গাইডওয়াল নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ঠিকাদারের আবেদনে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।