নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূর ওপর নির্মম নারকীয় বীভৎসতা, সিলেটের এমসি কলেজে নববধূ, খাগড়াছড়িতে উপজাতি নারীর সম্ভ্রমহানিসহ সারা দেশ ধর্ষণের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ধর্ষণ বন্ধ করতে চাইলে শুধুমাত্র ধর্ষকদের ধরলে ধর্ষণ কমবে না। ধর্ষকদের পেছনে রাজনৈতিক নেতারা আছেন, তাদের ধরতে হবে। গডফাদারদের ধরতে হবে। স্থানীয় এমপি, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বাররা দেলোয়ারের মতো ধর্ষকদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানিয়েছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তারা বলেন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এখলাসপুরের দেলোয়ার যুবলীগের নেতা। নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের লোক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে দেলোয়ার নানা অপকর্ম করে বেড়াত।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সরকারের নৈতিক অবস্থান নেই। নৈতিক অবস্থান হারানোর কারণে সরকার পদক্ষেপ নিতে পারছে না। রাতের আঁধারে জনগণের ভোট কেড়ে নেওয়ার কারণে নৈতিকভাবে দুর্বল সরকার রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না। রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদ, সাবরিনাদের ধরলেও তাদের গডফাদারদের ধরছে না। তাদের পেছনে সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লোকজন ছিল।’
তিনি বলেন, ‘নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য দেলোয়ারের মতো ধর্ষকদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ঐ সংসদ সদস্যের জন্য দেলোয়ারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এখন ধর্ষণের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় জনগণ যখন প্রতিবাদ করছে তখন সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন তৎপর হয়েছে। এতদিন তারা কী করেছে?’
দলটির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজ যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় তাদের দেলোয়ারের মতো লোকেরা সহযোগিতা করেছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর করেছে। বাড়িঘর ছাড়া করেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘একমাস আগের ঘটনা। স্থানীয় লোকজন জানে, প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি জানে না। তারাও জানে। কিন্তু ধরেনি। কে কাকে ধরবে? সবাই কোনো না কোনোভাবে জড়িত। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না সরকার।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার সারা দেশকে ধর্ষণের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে। বিচার দৃশ্যমান না হওয়ার কারণে ধর্ষণ এবং দুর্নীতি বাংলাদেশে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। করোনাকালীন দুর্যোগময় এই সময়েও ধর্ষণ এবং দুর্নীতি বাংলাদেশকে একটি অমানবিক ও অনৈতিক রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। ধর্ষণ মানবতাবিরোধী অপরাধ। বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ধর্ষক ও তাদের গডফাদারদের ধরতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘নোয়াখালীতে মায়ের বয়সী নারীর সঙ্গে যা করেছে, সেটা আইয়ামে জাহিলিয়ার বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। দেশে আইনের শাসন, বিচার ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় কত ভয়াবহ ধস নেমেছে, এই ঘটনা তার প্রমাণ। এ ঘটনায় গোটা জাতি বিক্ষুব্ধ। অবিলম্বে বেগমগঞ্জ, সিলেট, খাগড়াছড়িসহ দেশের যেকোনো স্থানে সংঘটিত প্রতিটি ধর্ষণ ও নারী নিগ্রহের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’