করোনার সময় দায়িত্ব পালনকালে আক্রান্ত হয়ে মৃত ৯ পুলিশ সদস্যের পরিবার পাচ্ছে ক্ষতিপূরণ। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ছিল। সেই অনুসারে ইতিমধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্ষতিপূরণ বাবদ ৯ পুলিশ সদস্যের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বেতন গ্রেড অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বাবদ সাড়ে ৩৭ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা করে তারা মোট ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা পাবে। সম্প্রতি পুলিশ সদস্যদের পরিবার ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করে। কিন্তু তাদের মধ্যে ৯ পুলিশ সদস্যের পরিবার অর্থ মন্ত্রণালয় কর্র্তৃক জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করলে তাদের আবেদন মঞ্জুর হয়। এসব পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য গত রবিবার হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছে অর্থ বিভাগ। বাকি আবেদনগুলো এখনো মঞ্জুর হয়নি বলে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
যে ৯ পুলিশ সদস্যের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে : এসবি, ঢাকার এসআই (নিরস্ত্র) মো. রাসেল বিশ্বাসের পরিবার সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা; ঢাকা মেট্রো উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) অনিতা রায়ের পরিবার ৫০ লাখ টাকা; আরআরএফ, রাজশাহীর এসআই (নিরস্ত্র) মোশারফ হোসেন শেখের পরিবার সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা; ডিএমপির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রাজু আহম্মেদের পরিবার ৫০ লাখ টাকা; চট্টগ্রামের কনস্টেবল মো. মোখলেছুর রহমানের পরিবার সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা; ডিএমপির কনস্টেবল মো. আলমগীর হোসেনের পরিবার সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা এবং ঢাকা পিএমপির নায়েক মো. আল মামুনুর রশিদের পরিবার সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা; সিরাজগঞ্জের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ফজলুর রহমানের পরিবার ৫০ লাখ টাকা এবং রাজশাহীর এসআই (নিরস্ত্র) আবুল কালাম আজাদের পরিবার সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা পাচ্ছে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই প্রথম প্রয়াত প্রতিরক্ষা সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক মো. মঈন উদ্দিনের পরিবারের অনুকূলে ক্ষতিপূরণের সম্মতি দেওয়া হয়। উভয় পরিবারের নামে ৫০ লাখ টাকা করে ১ কোটি টাকা মঞ্জুরি দিতে প্রধান হিসাব কর্মকর্তার কাছে দুটি আলাদা চিঠি পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়। এরপর গত ১৯ আগস্ট করোনায় মারা যাওয়া পুলিশ সদস্যদের মধ্যে প্রথম ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার সম্মতি দেওয়া হয় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের নগর গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগের উপকমিশনার মো. মিজানুর রহমানের পরিবার।
চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ‘স্বাস্থ্যঝুঁকি বাবদ ক্ষতিপূরণের জন্য বিশেষ অনুদান’ খাতে যে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে, তা থেকে এ ব্যয় করা হবে বলেও অর্থ বিভাগ থেকে জানানো হয়। তবে করোনায় আক্রান্তের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এখনো শুরু হয়নি।
জানা গেছে, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো তিনজনের শরীরে শনাক্ত হয় করোনাভাইরাস (কভিড-১৯)। শনাক্তের কয়েক দিন পরই ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে সরকার কয়েক ধাপে ৬৬ দিন সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করে। কিন্তু সাধারণ ছুটি ও এর পরবর্তী সময়েও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসনসহ মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিজীবীদের কাজে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হলে ক্ষতিপূরণ বাবদ গ্রেডভেদে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পাবেন। আর মারা গেলে পাবেন ২৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা।
গত ২৩ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রে বলা হয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদানে সরাসরি কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ এ সংক্রান্ত সরকার ঘোষিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারী দায়িত্ব পালনকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ক্ষতিপূরণ বাবদ সরাসরি আর্থিক সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ওই পরিপত্রে আরও বলা হয়, ২০১৫-এর বেতন স্কেল অনুযায়ী ১৫-২০তম গ্রেডের কেউ আক্রান্ত হলে ক্ষতিপূরণ ৫ লাখ ও মারা গেলে পাবেন ২৫ লাখ টাকা। ১০-১৪তম গ্রেডের কেউ আক্রান্ত হলে সাড়ে ৭ লাখ এবং মারা গেলে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা পাবেন। এ ছাড়া প্রথম-নবম গ্রেডের কেউ আক্রান্ত হলে ১০ লাখ এবং মারা গেলে ৫০ লাখ টাকা পাবেন।