নোয়াখালীতে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং সিলেট এমসি কলেজে গৃহবধূকে দল বেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড়ের মধ্যে এবার ঢাকার আশুলিয়ায় দুই বান্ধবীকে কিশোর গ্যাং সদস্যদের ধর্ষণের ভিডিও ফাঁস হয়েছে। ঘটনার ৩৬ দিন পর ওই ভিডিও ফাঁস হলে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে আশুলিয়ার ভাদাইল ও নয়ারহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন কিশোরকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া কিশোর গ্যাংটির ‘দলনেতাকে’ খুলনা থেকে আটক করে আশুলিয়া আনা হয়। দুই বান্ধবীকে ধর্ষণে জড়িত আরও আট কিশোর পলাতক।
গ্রেপ্তাররা হলো ধামসোনা ইউনিয়নের ভাদাইল সাধু মার্কেট এলাকার ‘প্রিন্স কিশোর গ্যাং’য়ের দলনেতা সারুফ (১৬) এবং দলটির সদস্য ডায়মন আলামিন (১৪), জাকির (১৩) ও পান রাকিব (১৬)। এদের মধ্যে গ্যাং লিডার সারুফ ভাদাইল এলাকার গরিবে নেওয়াজ স্কুলের শিক্ষার্থী, পান রাকিব ভাদাইল এলাকায় সবজি বিক্রি করে এবং বাকি দুজন শিক্ষার্থী।
আশুলিয়া থানা পুলিশ জানায়, গত ৩০ আগস্ট আশুলিয়ার ভাদাইলের পবনারটেক এলাকায় প্রতিবেশী দুই তরুণকে নিয়ে দুই কিশোরী বান্ধবী পাশের গুলিয়ারচক এলাকায় বেড়াতে যায়। সেখানে কিশোর গ্যাংয়ের ১০ থেকে ১২ জন ওই দুই তরুণকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। পরে দুই কিশোরীকে দল বেঁধে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। ঘটনাটি দলের একজনের বাবা টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের হুমকিতে ভয়ে এক কিশোরী নিজ গ্রামে চলে যায়।
ধর্ষণের শিকার কিশোরীদের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া এক তরুণ সাংবাদিকদের বলেন, আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করত তাদের দুই বান্ধবী। ৩৬ দিন আগে তাদের নিয়ে ভাদাইলের গুলিয়ারচক এলাকায় বেড়াতে যান তারা। এ সময় তাদের চারপাশ দিয়ে ১০ থেকে ১২ জন ছেলে ঘিরে ফেলে মেয়েদের সঙ্গে কী সম্পর্ক জানতে চায়। তারা আত্মীয় পরিচয় দিলেও কোনো কিছু শুনতে না চেয়ে একপর্যায়ে মারধর করে তাদের দুজনকে তাড়িয়ে দেয় ও কাউকে এ ঘটনা বললে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তবে কিশোরীদের আটকে রাখে।
আশুলিয়া থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের নিজেদের দ্বন্দ্বের জেরে ভিডিও ফাঁস হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই ভিডিওর সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক কিশোরীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং হামলার শিকার দুই তরুণকে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদেরও ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ৩৫ বছর বয়সী এক নারীর বাড়িতে ঢুকে একদল যুবক তাকে বিবস্ত্র করে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালায় এবং ভিডিও ধারণ করে। এক মাস পর ৪ অক্টোবর ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তোলপাড় সৃষ্টিকারী আরেকটি ঘটনা ঘটেছে সিলেটের এমসি কলেজে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া এক গৃহবধূকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে ছাত্রাবাসে নিয়ে ধর্ষণ করে কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মী। এ দুটি ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে।