নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে ট্রাম্পের বিশেষ বাহিনী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাকি আর মাত্র চার সপ্তাহ। একের পর এক ঘটনা নির্বাচনী বাস্তবতাকে প্রতিদিন নতুন ঘটনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না তা নিয়ে একাধিকবার সংশয় প্রকাশ করেছেন খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এজন্যই বোধহয় ট্রাম্প তার বিশেষ বাহিনীকে প্রস্তুত রেখেছেন ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোকে পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখতে। এ নিয়ে গতকাল সংবাদমাধ্যম রয়টার্সে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রিপাবলিকান শিবিরের এ বিশেষ বাহিনী আগাম ভোটদান কেন্দ্রগুলোতেও নজরদারি করবে। পেনসিলভানিয়া, ফ্লোরিডা ও উইসকনসিনের মতো ব্যাটেলগ্রাউন্ডে রিপাবলিকান পর্যবেক্ষকরা যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে। বিশেষ করে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে যাতে কোনো জালিয়াতি না হয় তা দেখাই এ বিশেষ বাহিনীর দায়িত্ব। তবে বিশেষ এ বাহিনীতে কত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন তা বলা হয়নি। রয়টার্স বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছে বিশেষ এ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা হতে পারে কমবেশি ৫০ হাজার।

পরিকল্পনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, পর্যবেক্ষকরা যাতে ঘটনার ছবি ও ভিডিও তুলে রাখতে পারে সেজন্য তাদের সবার হাতে থাকবে মোবাইল ফোন। ডেমোক্র্যাটরা যাতে কোনো মিথ্যে দাবি না করতে পারে, তার প্রমাণ রাখার জন্যই এ ব্যবস্থা। ইতিমধ্যেই রিপাবলিকান ক্যাম্পেইন থেকে বেশকিছু ছবি ও ভিডিওচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে সন্দেহের ভিত্তিতে। ফিলাডেলফিয়াতে গত মাসে আগাম ভোট হয়। সেখানকার নির্বাচন কমিশন জানায়, তারা ভোটকেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ করতে পারবেন। কিন্তু আগাম ভোটদান কেন্দ্রগুলোতে তাদের প্রবেশাধিকার থাকবে না।

ভোটাধিকারবিষয়ক কিছু অধিকারকর্মী অবশ্য মনে করেন, নির্বাচন কেন্দ্রে ট্রাম্পের এমন বাহিনী ভোটারদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলেও তারা মনে করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের তেমন গুরুত্ব নেই। ফলে আঞ্চলিক ও রাজ্য পর্যায়ে কিছু ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষক ছাড়া বড় পরিসরের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয় না। কিন্তু এবারের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, তার বিরোধী শিবির ডেমোক্রেট দল ডাকযোগে ভোট ব্যবস্থায় ত্রুটি সৃষ্টি করে ভুয়া ভোটের বন্যা বইয়ে দিতে পারে।

অনলাইনে প্রকাশ পাওয়া এক ভিডিওতে ট্রাম্পের এ বিশেষ বাহিনীকে ‘আর্মি ফর ট্রাম্প’ নাম দেওয়া হয়েছে। আর এই পুরো পরিকল্পনার পেছনে আছেন ট্রাম্পের ছেলে। জুনিয়র ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, ডেমোক্রেট শিবির কয়েক মিলিয়ন ‘প্রতারণামূলক ব্যালট’ প্রস্তুত রেখেছে ভোট জালিয়াতির জন্য।

ফ্লোরিডার রিপাবলিকানরা ঐতিহাসিকভাবেই ডাকযোগে ভোট দিতে অভ্যস্ত। ওই রাজ্যের ২৫ লাখের মতো ডেমোক্র্যাট ভোটারও ডাকযোগে ভোট নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বিপরীতে সেখানে রিপাবলিকান ভোটারের সংখ্যা ১৭ লাখ। আর পেনসিলভানিয়ার ১৫ লাখ ডেমোক্র্যাটের দাবি ডাকযোগে ভোটের। পেনসিলভানিয়ার বাকস কাউন্টির রিপাবলিকান পার্টি প্রধান প্যাট ডিয়নের মতে, ‘এবারের ভোটে অনেক পর্যবেক্ষক, ক্যামেরা ও আইনজীবী থাকবেন।’ ব্রেনান সেন্টারের ভোটাধিকারবিষয়ক অধিকারকর্মী মারনা পেরেজ বলেন, ‘এত পর্যবেক্ষক দেওয়ার মানে সাধারণ আমেরিকানদের ভয় দেখানো যে, তাদের সামনে বিপদ আছে।’