এফএমসিজি খাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ২২৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অধীন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে এই বিনিয়োগ করবে বলে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এ তথ্য জানিয়েছে ম্যারিকো বাংলাদেশ।
নারকেল তেলসহ বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে দেশে শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারতীয় ম্যারিকো লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড। কোম্পানিটির উৎপাদিত পণ্যগুলোর চাহিদা প্রতি বছরই আকর্ষণীয় হারে বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে নিট মুনাফাও। প্রসাধনী ও খাদ্যসামগ্রী খাতে বর্তমানে কোম্পানিটির ২৯টি পণ্য রয়েছে।
নারকেল তেল ও ভ্যালু অ্যাডেড হেয়ার অয়েলে দেশে এক নম্বর অবস্থানে রয়েছে ম্যারিকো। বর্তমানে দেশে প্রতি পাঁচ পরিবারের চারটিই ম্যারিকোর পণ্য ব্যবহার করছে। কোম্পানিটির বিক্রি থেকে মোট আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে প্যারাস্যুট ব্র্যান্ডের নারকেল তেল থেকে। এ ছাড়া আয়ের প্রায় ২৪ শতাংশ আসে প্যারাস্যুট অ্যাডভান্সড ও নিহার ন্যাচারালস হেয়ার অয়েল থেকে। একটি পণ্যের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা কমাতে কোম্পানিটি পণ্য উৎপাদনে বৈচিত্র্যতা আনছে। এরই অংশ হিসেবে শ্যাম্পু, ফেসওয়াস, হেয়ার জেলের মতো পুরুষদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী সামগ্রী উৎপাদন করছে। প্রতি বছরই কোম্পানিটির পণ্য বিক্রিতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
ম্যারিকো সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের পণ্যের যে চাহিদা রয়েছে তা বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা দিয়ে ২০২৩ সালের পর মেটানো যাবে না। তাই পণ্য চাহিদা বিবেচনায় উৎপাদন বাড়াতে কারখানা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি। ঘোষিত বিনিয়োগে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন কারখানা করবে।
২০১৯-২০ হিসাব বছরে পণ্য বিক্রি থেকে ম্যারিকোর আয় ছিল ৯৮০ কোটি টাকা, যা আগের হিসাব বছরের চেয়ে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এ সময় নিট মুনাফা হয় ২৬৪ কোটি টাকা, যা ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের তুলনায় ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ম্যারিকো বাংলাদেশের উৎপাদিত প্রসাধনীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে প্যারাস্যুট অ্যাডভান্সড ও নিহার ন্যাচারালস হেয়ার অয়েলে, যেখানে সর্বশেষ হিসাব বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। এ সময়ে ভোজ্যতেল সাফোলা এডিবল অয়েলে প্রবৃদ্ধি আসে ১০৮ শতাংশ। এ ছাড়া সবচেয়ে বেশি আয় আসা প্যারাস্যুট নারকেল তেলে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ।