করোনাভাইরাসের সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলায় জেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ও প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম মহাসড়ক উদ্বোধন শেষে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন।
এ সময় কভিড-১৯ মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা হাসপাতালগুলোতে ইতিমধ্যে দুই হাজার ডাক্তার এবং তিন হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি।’ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার তাগিদ দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, সবচেয়ে কষ্টের বিষয় আমাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা স্কুলে, কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। তাদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারপরও আমরা চাচ্ছি, তাদের পড়াশোনাটা যাতে চলমান থাকে।
শেখ হাসিনা করোনা মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা করা এবং রোদের সংস্পর্শে আসার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘শিশু-কিশোরদের মুক্ত বাতাসে থাকতে হবে এবং রোদে থাকাটা জরুরি। অভিভাবকদের নিজেদের সন্তানদের ক্ষেত্রে বিষয়টি মাথায় রাখার পাশাপাশি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, যাতে এই করোনাভাইরাসে আর কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’
করোনা জয় করেই তার সরকার এগিয়ে যাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ যেমন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে তেমনি যেকোনো ধরনের সমস্যা সেটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগই হোক না কেন আমরা সেগুলো মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব, ইনশাল্লাহ।’
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সারা দেশে একটা সড়কের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছি। নৌপথগুলো সচল করার ব্যবস্থা নিয়েছি। রেলপথ সংযোগ পুনরায় স্থাপন করে এবং আরও নতুন নতুন অঞ্চলে রেললাইন সম্প্রসারণ করে রেলে যোগাযোগের সুযোগ বাড়াচ্ছি।’
ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম মহাসড়ক উদ্বোধন শেষে সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মুজিববর্ষে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে এটি উপহার হিসেবে দিয়েছি। আমরা তার (রাষ্ট্রপতির) অনুপ্রেরণা ও উদ্যোগের কারণে রাস্তাটি নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হওয়ায় এ মহাসড়কটি নির্মাণের কারণে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ দূর হয়ে যাবে।’
অনুষ্ঠানে মহাসড়কটির ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। ভিডিওতে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কের ভিডিও চিত্র দেখে হাওর ও সড়কটির সৌন্দর্যে অভিভূত হয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইশ! কবে যে যাব। এ সড়কে (দেখতে) কবে যে যাব। আমার মনটা পড়ে থাকল। এ সড়ক দিয়ে গাড়িতে কবে যাব? রাষ্ট্রপতিও চান আমি যেন সরাসরি যাই। আমি যাব। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হলে এ সড়ক দেখতে যাব।’
হাওরবাসীর অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাওর অঞ্চলের মানুষ এখন শুধু মাছ তুলবে না, মাছ যেখানে রাখবে, মাছ সংরক্ষণ করার জন্য বরফকল থেকে বাকি সবকিছু করেছি। কিশোরগঞ্জ-নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ এ তিন জেলায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র করে দিচ্ছি। হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে এ এলাকায় আগেই একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথাও এ সময় উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম প্রকল্পের পর একটি সংক্ষিপ্ত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ৮৭৪ দশমিক ০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়কটি নির্মাণ করেছে। ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। হাওরের বুক চিরে চলে যাওয়া ২৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এ অলওয়েদার সড়কে ৫৯০ দশমিক ৪৭ মিটার দীর্ঘ তিনটি পিসি গার্ডার, ১৯০ মিটার দীর্ঘ ৬২টি আরসিসি বক্স কালভার্ট, ২৬৯ দশমিক ৬৮ মিটার দীর্ঘ ১১টি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।