দেশে দেশে করোনাভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন হলেও আসন্ন ভ্যাকসিনগুলো কভিড-১৯ রোগ প্রতিরোধ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থার গবেষকেরা।
কভিড-১৯ সৃষ্টিকারী সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের একাধিক জাতের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন কার্যকর হবে না বলে যে আশঙ্কা ছিল তা বৃহস্পতিবার কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিএসআইআরও) প্রকাশিত এক গবেষণায় দূর করা হয়েছে।
মহামারীর প্রকোপের সময় প্রভাবশালী থাকা ভাইরাসের ‘ডি-স্ট্রেইন’-এর ওপর ভিত্তি করে বেশির ভাগ ভ্যাকসিন তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু তখন থেকে ভাইরাসটি রূপান্তরিত হয়ে ‘জি-স্ট্রেইন’ বা ‘ডি৬১৪জি’ জাতে পরিণত হয়েছে। এটিই এখন সার্স-কোভ-২ জিনোমের ৮৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করছে।
সিএসআইআরও দল ইনোভিও ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি করা ভ্যাকসিন আইএনও-৪৮০০ প্রয়োগ করা ইঁদুর নিয়ে গবেষণায় দেখেছেন ভ্যাকসিনটি ডি এবং জি স্ট্রেইন উভয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ছিল।
সিএসআইআরও’র প্রধান নির্বাহী ল্যারি মার্শাল বিবৃতিতে বলেন, ‘মানুষকে রক্ষা এবং জীবন বাঁচাতে নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিনের কাছে বিশ্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে এই গবেষণা।’
তিনি বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ধরনের গবেষণা কেবল অস্ট্রেলিয়া এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই সম্ভব।’
করোনা ভ্যাকসিনের দৌড়ে রাশিয়ার পাশাপাশি এখন পর্যন্ত চীন-যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে এগিয়ে। রাশিয়া জাতীয়ভাবে ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়ে ব্যবহার শুরু করেছে।
চীনের চারটি ভ্যাকসিন তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে আছে। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশ এত ভ্যাকসিন তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে নিতে পারেনি।
এর মধ্যে চীনা ন্যাশনাল বায়োটেক গ্রুপের তৈরি দুটি টিকা ও সিনোভ্যাকের একটি টিকা জরুরিভাবে নাগরিকদের ওপর ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে। চতুর্থ আরেকটি টিকা সেনাসদস্যদের দেওয়ার জন্য সবুজ সংকেত পেয়েছে।