মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি এখন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ : সায়মা

বাংলাদেশের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ যৌথভাবে নতুন একটি গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে। ব্রিটেনের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চাটাম হাউজ ও ইমপেরিয়েল কলেজ অব লন্ডনের যৌথ আয়োজনে গতকাল শুক্রবার এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি শুরু হয়। সেখানে মূল বক্তা ছিলেন অটিজম বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। ইউসিএল-এর সৌজন্যে ‘মন প্রথম’ বা মাইন্ড ফার্স্ট রিসার্চ পার্টনারশিপ নামের এই দ্বিপক্ষীয় যৌথ প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছে ইমপেরিয়েল কলেজ অব লন্ডন। ইমপেরিয়াল কলেজের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য খাত বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। ব্রিটেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় বাংলাদেশের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে কীভাবে সমন্বিত উন্নয়ন সম্ভব তা নিয়ে অনুষ্ঠানে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে সায়মা ওয়াজেদ বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান অবস্থা এবং এ খাতকে এগিয়ে নিতে তার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি এখন আক্ষরিকভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে, যা উপেক্ষা করা যায় না। ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডার অংশ হিসেবে সব দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ইউএইচসি অর্জনের অঙ্গীকার করেছে। মানসিক স্বাস্থ্য ছাড়া কোনো স্বাস্থ্য হতে পারে না, আর স্বাস্থ্য না থাকলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয় না।’

ইমপেরিয়েল কলেজের স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক মালা রাও এ প্রকল্পের নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মন প্রথম বা মাইন্ড ফার্স্ট নামে এ দ্বিপক্ষীয় প্রকল্পকে সফল করতে ব্রিটেন ও বাংলাদেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো একযোগে কাজ করবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আমরা অত্যন্ত আন্তরিক।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যা ট্রন ডিক্সন বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বিশ্বজুড়ে অবহেলিত অথচ খুব জরুরি। করোনাকাল মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকে মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ব্রিটেন-বাংলাদেশের যৌথ প্রকল্প বাংলাদেশের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় সমন্বিত ও প্রায়োগিক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইনোভেশন ফর ওয়েলবিয়িং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মনিরা রহমান, সামিনি জেনি, স্টিফেইন আর্মস্টং।

ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের (ইউকে আরআই) গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড এ প্রকল্পের অর্থায়ন করছে। বাংলাদেশের আইসিসিডিআরবি, ইনোভেশন ফর ওয়েলবিয়িং ফাউন্ডেশন, জেপিজিএসপিএইচ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ব্রিটেনের চাটাম হাউজ, ইস্ট লন্ডন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও ইউনিভার্সিটি অফ লিংকন এ যৌথ প্রকল্পে কাজ করবে।