বদলে যাচ্ছে ইস্কাটন-বেইলি রোডের স্কাইলাইন

উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান নিশ্চিত করতে রাজধানীর বেইলি রোড ও ইস্কাটন এলাকায় দুটি বেজমেন্টসহ ২০টি ১৩ তলা ও আটটি বিভিন্ন উচ্চতার ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধাসহ এ প্রকল্পে থাকবে মাল্টিপারপাস হল, জিমনেশিয়াম, লাইব্রেরি, ডে-কেয়ার, সোলার স্ট্রিট লাইট, প্লে-গ্রাউন্ডে খেলার সব সরঞ্জাম। আলাদা কমিউনিটি ভবনে থাকবে ক্লাব, স্কুল ও বিদ্যুৎ সাবস্টেশন। গত জুলাই মাসে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তরের হাতে নেওয়া এ দুটি প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৭৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইস্কাটন ও বেইলি রোড এলাকায় জমি অনেক দুর্লভ ও মূল্যবান। তাই ভূমির যথাযথ ব্যবহারের জন্য বহুতল ভবন সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত। এসব এলাকার আশপাশে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে সুউচ্চ ভবন নির্মাণ করেছে। এখানে আমাদের নিজস্ব জমি থাকায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে সরকারের জমি কিনতে কোনো অর্থ খরচ হবে না।’

তিনি বলেন, এ প্রকল্পে সব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এখানে মোট দোতলা বেজমেন্টসহ ২০টি ১৩ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি সেখানে ছয়তলা পাঁচটি ও তিনটি বিভিন্ন উচ্চতার ভবনে থাকবে ক্লাব, স্কুল, বিদ্যুৎস্টেশন, জিমনেশিয়াম, লাইব্রেরি ও ডে-কেয়ার সেন্টার। আমরা আশা করছি এ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন সরকারি কর্মকর্তাদের উন্নত আবাসন নিশ্চিত হবে অন্যদিকে আধুনিক ও নান্দনিক ডিজাইনে পুরো এলাকার চিত্রও পাল্টে যাবে।

পূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভায় ‘ঢাকাস্থ বেইলি ড্যাম্প অফিসার্স কোয়ার্টার ক্যাম্পাস সরকারি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ প্রকল্পের সিদ্ধান্ত হয়। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরমেয়াদি নেওয়া এ প্রকল্পের বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৬২৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এখানে দোতলা বেজমেন্টসহ মোট ১০টি ১৩ তলা ভবন নির্মাণ হবে। এর মধ্যে পাঁচটি ভবনের প্রতি তলায় চারটি করে ১৫০০ বর্গফুটের মোট ২৪০টি ফ্ল্যাট থাকবে। আর বাকি পাঁচটি ভবনে প্রতি তলায় চারটি করে মোট ১২৫০ বর্গফুটের আরও ২৪০টি ফ্ল্যাট নির্মিত হবে। এছাড়া এ প্রকল্পে ছয়তলা একটি কমিউনিটি ভবন, একটি ছয়তলা একটি সার্ভিস ভবন, চারতলা একটি স্কুল ভবন, দোতলা একটি ক্লাব ভবন ও একতলা একটি গার্বেজ ডিসপোজাল জোন ভবন নির্মাণ করা হবে।

কর্মকর্তা আরও জানান, একই সময়ে ‘ঢাকাস্থ ইস্কাটন অফিসার্স কোয়ার্টার এলাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প’ নামে আরেকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ভবনগুলো নির্মাণ গণপূর্ত অধিদপ্তর করলেও এর নকশা প্রণয়ন করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। ৭৪৭ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। এখানে দুটি বেজমেন্টসহ মোট ১০টি ১৩ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে পাঁচটি ভবনে ১৮০০ বর্গফুটের মোট ২৪০টি ফ্ল্যাট ও বাকি পাঁচটি ভবনে ১৫০০ বর্গফুটের আরও ২৪০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া একটি ছয়তলা কমিউনিটি হল ভবন ও ছয়তলা আরেকটি ভবনে বিদ্যুৎ সাবস্টেশন ও এসটিপি বসানো হবে।