সিঙ্গাপুরের বিত্তশালী এক পরিবারের সঙ্গে মামলায় লড়ে জয়ী হলেন ইন্দোনেশিয়ান গৃহকর্মী পারতি লিয়ানা। গত মাসের শুরুর দিকে কয়েক বছর ধরে চলা এই মামলাটি নিষ্পত্তি হয়। মামলাটির মধ্য দিয়ে সুবিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সিঙ্গাপুরের উচ্চ আদালত। এই মামলায় সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত বিদেশি কর্মীদের অসহায়ত্বও ফুটে উঠেছে। বিবিসি অবলম্বনে পরাগ মাঝি
পারতি লিয়ানা
ইন্দোনেশিয়ান নারী পারতি লিয়ানা কয়েক বছর ধরেই সিঙ্গাপুরে বাস করছিলেন। প্রতি মাসে ৬০০ ডলার বেতনে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন সেখানে। যে বাড়িতে কাজ করতেন, সেই বাড়িটি ছিল সিঙ্গাপুরের এক বিত্তশালী পরিবারের। বলা যায়, ছোট্ট দেশটির হাতে গোনা গোটা কয়েক ধনী পরিবারের একটি ছিল সেই পরিবার। এই বাড়ির কর্তা লিউ মুন লিয়ং ছিলেন দেশটির বড় বড় কয়েকটি কোম্পানির মালিক ও অংশীদার।
লিউ মুন লিয়ংয়ের বাড়িতে কাজ করে ভালোই চলছিল পারতি লিয়ানার। কিন্তু হঠাৎ করেই এক দিন সেই বাড়িতে চুরির দায়ে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। শুধু তা-ই নয়, লিয়ানাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। অভিযোগ করা হয়, একটি বিলাসবহুল হ্যান্ডব্যাগ, একটি ডিভিডি প্লেয়ারসহ অসংখ্য জিনিস চুরি করেছে পারতি। সে সময় কে জানত যে, মামুলি এ ঘটনাটি সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে আলোচিত একটি মামলায় পরিণত হতে যাচ্ছে!
গত মাসের শুরুর দিকে মামলার অভিযোগ থেকে চূড়ান্তভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয় পারতি লিয়ানাকে। মুক্তি পাওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে একজন দোভাষীর মাধ্যমে লিয়ানা বলেন, ‘আমি খুব খুশি। কারণ আজ পাকাপাকিভাবে মামলা থেকে মুক্ত হলাম। চার বছর ধরে আমি এই মামলা লড়েছি।’
পারতি লিয়ানা তার বিরুদ্ধে আনা চুরির সব অভিযোগ শেষ পর্যন্ত মিথ্যা প্রমাণ করতে পারলেও সিঙ্গাপুরের বিচার ব্যবস্থায় বৈষম্যের ব্যাপারটি অনেকের কাছেই এখন প্রশ্নবোধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ মামলার শুরুর দিকে লিয়ানাকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিয়েছিল আদালত।
চাকরি থেকে বরখাস্ত
লিউ মুন লিয়ংয়ের বাড়িতে ২০০৭ সাল থেকে গৃহপরিচারিকার কাজ করছিলেন লিয়ানা। সে সময় লিউ মুন লিয়ংয়ের ছেলে কার্ল লিউসহ আরও বেশ কয়েকজন সদস্য থাকতেন বাড়িটির অন্দরমহলে। পরে ২০১৬ সালের মার্চে কার্ল লিউ তার পরিবারসহ ওই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বসবাসের জন্য চলে যান।
আদালতের নথি থেকে জানা যায়, বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লিয়ানাকে বিভিন্ন সময় নিজের নতুন বাড়ি ও অফিস পরিষ্কার করে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন কার্ল লিউ। কিন্তু এটি ছিল সিঙ্গাপুরের শ্রম আইনের পরিপন্থী। এজন্য এর আগে একটি অভিযোগও দাখিল করেছিলেন লিয়ানা।
কয়েক মাস পর লিউ পরিবারের পক্ষ থেকে লিয়ানাকে বলা হয় যে, তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। চাকরিচ্যুতির কারণ হিসেবে তাকে জানানো হয়, তারা সন্দেহ করছেন লিয়ানা তাদের বাড়ি থেকে কোনো কিছু চুরি করেছেন। তবে, কার্ল লিউ যখন লিয়ানাকে তার চাকরিচ্যুতির খবরটি দেন, তখন লিয়ানা তাকে মুখের ওপরই বলে দিয়েছিলেন ‘আমি জানি কেন আমার চাকরি চলে গেছে। আপনার টয়লেট পরিষ্কার করিনি বলেই আমার ওপর আপনি রেগে আছেন।’
লিয়ানাকে তার সবকিছু গুছিয়ে ফেলার জন্য দুই ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। তার বেশ কয়েকটি বক্স ছিল। কথা ছিল এই বক্সগুলো যথাসময়ে লিউ পরিবার ইন্দোনেশিয়ায় পাঠিয়ে দেবে। লিয়ানা সেদিনই সিঙ্গাপুর থেকে ইন্দোনেশিয়ায় চলে যান।
ইন্দোনেশিয়ায় ফিরে যাওয়ার আগে লিয়ানা যখন তার বক্সগুলো গোছাচ্ছিলেন, তখন তিনি কার্ল লিউকে এই বলে হুমকি দেন যে, ‘আপনি নিয়মের বাইরে গিয়ে আমাকে দিয়ে আপনার বাড়ি পরিষ্কার করাতে চেয়েছেন। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে আমি নালিশ করব।’
চুরির অভিযোগ
লিয়ানা চলে যাওয়ার পর লিউ পরিবারের সদস্যরা তার বক্সগুলো খুলে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তাদের দাবি অনুযায়ী, লিয়ানার বক্সের মধ্যে তারা বিলাসবহুল হ্যান্ডব্যাগ ও ডিভিডি প্লোয়ারসহ চুরি করা অসংখ্য জিনিস খুঁজে পায়। ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর লিউ মুন লিয়ং এবং তার ছেলে কার্ল লিও পুলিশের কাছে লিয়ানার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগনামা দেন।
পাঁচ সপ্তাহ ইন্দোনেশিয়ায় নিজের বাড়িতে কাটিয়ে কাজের সন্ধানে আবার সিঙ্গাপুর আসেন লিয়ানা। যদিও সে সময় পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে লিউ পরিবারের করা অভিযোগনামা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। সিঙ্গাপুরে পা রাখা মাত্রই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ফলে অপরাধের অভিযোগে তার আর কাজ করার কোনো উপায় ছিল না। তাকে অভিবাসী শ্রমিকদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়। মামলা লড়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না তার কাছে। ফলে প্রবাসের মাটিতে বড় ধরনের এক বিপদের মুখোমুখি হন লিয়ানা।
ক্রস ড্রেসিং ও গোলাপি ছুরি
লিউ পরিবার লিয়ানার বিরুদ্ধে বেশ কিছু জিনিস চুরি করার অভিযোগ আনে। এর মধ্যে ১১৫ পিস কাপড়, বিলাসবহুল হ্যান্ডব্যাগ, একটি ডিভিডি প্লেয়ার, দুটি আইফোন ও জেরাল্ড জ্যান্টা ব্র্যান্ডের একটি ঘড়িও ছিল। এসব জিনিসের বাজারমূল্য ধরা হয় ৩৪ হাজার ডলার।
বিচার চলার সময় লিয়ানা স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে গিয়ে জানান, তার বিরুদ্ধে যেসব জিনিস চুরি করার অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর কিছু কিছু তার নিজেরই। কয়েকটি জিনিস ছিল বাতিল। এগুলো ফেলে দেওয়ার পর তিনি কুড়িয়ে নিজের কাছে রেখেছিলেন এই ভেবে যে, এগুলোকে বাচ্চারা খেলনা হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু জিনিস চুরি করার অভিযোগ করা হয়, যেগুলো তিনি তার বক্সের ভেতর কখনোই রাখেননি।
২০১৯ সালে সিঙ্গাপুরের এক জেলা জজ লিয়ানাকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন। রায় অনুযায়ী, তার দুই বছর দুই মাসের কারাদণ্ড হয়। এই অবিচারকে মাথা পেতে নেননি লিয়ানা। তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। অবশেষে গত মাসের শুরুর দিকে সিঙ্গাপুরের উচ্চ আদালতে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন এবং তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
উচ্চ আদালতের বিচারক চ্যান সেং ওন এই বলে মামলার সমাপ্তি টানেন যে, মামলার বাদী আলোচিত ওই বিত্তশালী পরিবারটির ‘অশোভন উদ্দেশ্য’ ছিল। এ ছাড়া তিনি আরও কয়েকটি ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই মামলাটির ক্ষেত্রে এর আগে পুলিশ এবং জেলা জজের ভূমিকা নিয়ে তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
মামলার রায় ঘোষণার সময় বিচারক চ্যান সেং ওন বলেন, ‘লিউ পরিবারের পক্ষ থেকে লিয়ানার বিরুদ্ধে মামলাটি করার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল অনৈতিকভাবে কার্ল লিউয়ের বাড়ি পরিষ্কার করানোর ব্যাপারে কর্র্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো থেকে তাকে বিরত রাখা।’
বিচারক আরও জানান, লিয়ানার বিরুদ্ধে যেসব জিনিস চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে, তার অনেকগুলোই পুরোপুরিভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ জেরাল্ড জ্যান্টা ব্র্যান্ডের ঘড়িটির কথাই ধরা যাক। ঘড়িটি একে তো নষ্ট, তার ওপর এর মিনিট-ঘণ্টার কাঁটা নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো বাটনই ছিল না। দুটি আইফোনের কোনোটিই আর কাজ করার উপযোগী ছিল না। বিচারকের ভাষ্য হলো চুরি করার জন্য একজন মানুষ নষ্ট জিনিসগুলো কেন বেছে নেবে?
এ ছাড়া যে ডিভিডি প্লেয়ারটি চুরি করার অভিযোগ আনা হয়েছিল, সেটিও কাজ করছিল না বলে লিও পরিবারের সদস্যরা ময়লার ঝুড়িতে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। এটি যেকোনো ভিডিও ডিস্ক চালানোর উপযোগী ছিল না মামলা পরিচালনার সময় এই তথ্যটি লুকিয়ে রেখেছিল লিও পরিবার। এ ছাড়া মামলার সাক্ষী হিসেবে কার্ল লিউয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারক।
কার্ল লিউয়ের অভিযোগ ছিল লিয়ানা তার একটি বিশেষ গোলাপি চাকু চুরি করেছেন, যে চাকুটি তিনি যুক্তরাজ্যে কিনেছিলেন এবং ২০০২ সালে এটি সিঙ্গাপুরে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, এই চাকুটি অতি সাম্প্রতিক মডেলের এবং ২০০২ সালের দিকে এটি কিছুতেই যুক্তরাজ্যে তৈরি হয়নি।
বিচারে আরেকটি মজার ব্যাপার ঘটল। লিয়ানার বিরুদ্ধে যেসব কাপড় চুরির অভিযোগ আনা হয় সেগুলোকে নিজের কাপড় বলে দাবি করেছিলেন কার্ল লিউ। কিন্তু আদালতের উপস্থাপন করা বেশ কিছু কাপড়কে তিনি নিজের বলে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন। আবার কিছু কাপড়কে নিজের বললেও দেখা যায়, সেগুলো আসলে নারীদের কাপড়। এ ব্যাপারে বিচারক ভ্রু কুঞ্চিত করলে, কার্ল লিউ দাবি করে বসেন, তার ক্রস ড্রেসিংয়ের অভ্যাস রয়েছে। অর্থাৎ পুরুষ হলেও তিনি মাঝেমধ্যে নারীদের কাপড় পরেন। বিচারকদের কাছে এটি একেবারেই অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিচারক চ্যান জানান, অভিযোগ করার পর পুলিশ একবারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেয়নি। এ ছাড়া তারা লিয়ানাকে যথোপযুক্ত দোভাষী দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। লিয়ানা ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় কথা বললেও তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একজন মালয়ভাষীকে নিযুক্ত করেছিল পুলিশ। মালয় ভাষা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান ছিল না লিয়ানার।
মামলাটির ব্যাপারে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক ইউজেন ট্যান পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, ‘এটি দুশ্চিন্তাজনক।’
মানুষ-দৈত্যের লড়াই
আলোচিত মালিক-পরিচারিকার এই মামলাটি সিঙ্গাপুরবাসীকে দারুণভাবে নাড়া দিয়েছে। মামলার আসল সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর বিত্তশালী লিউ মুন ইয়ং এবং তার পরিবারের প্রতি সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন। অনেকে এই মামলাটিকে ধনী-গরিবের লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। দাবি করা হচ্ছে, ধনীরা এভাবেই আইনকে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করছে।
তবে, মামলাটিতে শেষ পর্যন্ত ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায়, দেশটির আইন আদালতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বেড়েছে। অধ্যাপক ইউজেন ট্যান বলেন, ‘যত দূর মনে পড়ছে, এই মামলাটির মতো ঘটনায় সুবিচারের উদাহরণ অতীতে কখনোই ঘটেনি।’
মামলাটির শুরুর দিকে পুলিশ ও নিম্ন আদালতের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য ‘লিয়ানার জায়গায় যদি আমি থাকতাম, তাহলে আমার ক্ষেত্রেও এমন অবিচার করা হতো।’
অর্থ ও সামাজিক প্রতিপত্তিকে কাজে লাগিয়ে পুলিশ ও নিম্ন আদালতকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিল লিউ পরিবার। কিন্তু মামলাটি উচ্চ আদালতে গিয়ে সত্য বেরিয়ে আসার পর গণ-অসন্তুষ্টির মুখে বেশ কয়েকটি নামিদামি কোম্পানির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন লিউ মুন ইয়ং।
লিউ মুন ইয়ং এক বিবৃতিতে সিঙ্গাপুরের উচ্চ আদালতের রায় এবং আইনি প্রক্রিয়াকে ‘সম্মানজনক’ বলেছেন। তবে লিয়ানার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্তকে সঠিক আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস করি, যদি কোনো বিষয়ে কোনো অন্যায় হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ হয়, তবে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হলো, তা পুলিশকে জানানো।’ উচ্চ আদালতের রায়ের ব্যাপারে লিউ মুন ইয়ংয়ের ছেলে কার্ল লিউ একেবারেই নীরব ছিলেন।
মামলাটিতে পুলিশ ও নিম্ন আদালতের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে সিঙ্গাপুরের আইন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে শানমুগম বলেন, ‘ঘটনার পরম্পরায় কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে। পরে এ ধরনের পদক্ষেপগুলোতে সরকারি নজরদারি আরও বাড়ানো হবে এবং এই প্রক্রিয়াকে আরও বৃহত্তর জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।’
আরেকটি ব্যাপার হলো মামলাটির মধ্য দিয়ে সিঙ্গাপুরে বিদেশি কর্মীদের অসহায়ত্বও ফুটে উঠেছে। দেশটির আইন-আদালতে তারা প্রায়ই অবিচারের মুখোমুখি হন। লিয়ানার বিরুদ্ধে মামলাটির ক্ষেত্রে তাকে সহায়তা করার জন্য এবং মামলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছিল।
বিদেশি কর্মীদের সুরক্ষায় দেশটিতে বেশ কিছু আইন থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কোনো কর্মী যদি মামলায় জড়িয়ে পড়েন, তবে মামলা পরিচালনার ব্যয় নির্বাহ করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। মামলা চলার সময় অনেকেই আবার কর্মহীন হয়ে পড়েন। আর লিয়ানার ক্ষেত্রে যেমনটি ঘটেছিল অর্থাৎ কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে যদি কোনো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান বা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি থাকেন, তবে ওই কর্মীর সুবিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের লড়াইকে অধ্যাপক ইউজেন ট্যান ‘মানুষ-দৈত্যের লড়াই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
মামলায় জয় লাভের পর এক সাক্ষাৎকারে পারতি লিয়ানা বলেন, ‘আমার আর কোনো ঝামেলা নেই। আমি ইন্দোনেশিয়ায় ফিরে যেতে চাই। আমি আমার মালিককে ক্ষমা করে দিয়েছি। তাদের উদ্দেশে শুধু বলতে চাই এ ধরনের কাজ কর্মীদের সঙ্গে যেন আর না করা হয়।’