ফেনীতে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ৩, তদন্ত কমিটি গঠন

ফেনীতে বাস-ট্রেন দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছে। রোববার ভোর সোয়া ছয়টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলসড়কের ফতেহ রেলক্রসিং এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৪ জন।

আহতদের বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ভোরে চট্টগ্রাম মেইলের সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা এনআর শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে দুজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যায়। আহতদের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে ঢাকায় ও একজনকে চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয়েছে।

ফেনী জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনায় আহত ১১জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদের মধ্যে রাজশাহীর মনিরুল (২০), কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আবদুল কুদ্দুছ (২৫), নাটোরের ফারুক হোসেন (২০), বেলাল (৫৫), সজল (২২), আরিফুল ইসলাম (৩৫), আশিক (১৭), চাঁপাইনবাবগঞ্জের রুবেল (৩০), ফেনীর সোনাগাজীর দুলাল (৫০), কিশোরগঞ্জের আজাহারুল ইসলাম (২২) ও পাবনার রন্দু খান (২৪) রয়েছেন।

হাসপাতালে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক সাইদুর রহমান জানান, গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের এখানে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান।

বাসে থাকা শহিদুল্লাহ নামে এক যাত্রী জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসে এন আর শ্যামলী পরিবহনের বাসটি কুমিল্লার নূর জাহান হোটেলে যাত্রা বিরতির পর আবার ছাড়ে। ভোরে গভীর ঘুমে থাকায় অবস্থায় হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। এরপর দেখেন বাসটি উল্টে আছে। অনেকেই ঘুমে আচ্ছন্ন থাকায় বাসের ড্রাইভারের কোন গাফিলতি আছে কিনা তা জানা যায়নি।

শরীফ উদ্দিন নামে বাসের আরেক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, কুমিল্লায় যাত্রাবিরতি শেষে চালক বাসের হেলপারকে বাস চালাতে দিয়ে নিজে পেছনে ঘুমিয়ে পড়ে। বাসটি ওভারপাস দিয়ে না গিয়ে নিচে যাওয়ার কারণে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে বাস-ট্রেন দুর্ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে ফতেহপুর রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত গেটম্যান আবুল কালামের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। গেটম্যানকে নিয়ে পাওয়া গেছে বিপরীতমুখী বক্তব্য। গেটম্যান আবুল কালাম বাসটিকে ইশারা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু বাসচালক সিগন্যাল না মেনে ভেতরে ঢুকে পড়লে ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লাগে বলে ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী প্রকৌশলী রিটন চাকমা দাবি করেন। 

ফেনী রেলওয়ে থানার ইনচার্জ এসআই মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন. দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রেলক্রসিংয়ে গেইট ম্যানকে পাননি। হয়তো সে দুর্ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিল, পরে পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফেনী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মাহবুবুর রহমান। কমিটিতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ডিএন-১ আবদুল হানিফ মুকুল, ডিএসটিই জাহেদ আরেফিন পাটোয়ারি তন্ময়, ডিটিও স্নেহাশীষ দাশ গুপ্ত, পাহাড়তলীর ডিএমও তন্ময় দত্ত ও ডিএনএ (লোকো) ওয়াহিদুর রহমানকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। দুপুরে তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান তিনি।

ফেনী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মাহাবুবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার কারণে একটি লাইন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে অপর লাইন দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।