বেগম রোকেয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজ

মিঠাপুকুরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ‘নিয়োগ বাণিজ্যে’র অভিযোগ

রংপুরের মিঠাপুকুরের বেগম রোকেয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে টাকা ফেরত চেয়ে আট মাস আগে লিগ্যাল নোটিস পাঠিয়েও ১৯ লাখ টাকা উদ্ধার করতে পারেননি দুজন চাকরি প্রত্যাশী।

উপজেলার বড় হয়রতপুর ইউনিয়নের নানকর বাজার সংলগ্ন ওই স্কুল অ্যান্ড কলেজটির অধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলামকে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রংপুর জজকোর্টের আইনজীবী এস এম রুহুল ইসলাম রাজীবের মাধ্যমে এ নোটিস পাঠানো হলেও টাকা না দেওয়ায় গতকাল রবিবার দুই চাকরী প্রত্যাশী সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।

চাকরিবঞ্চিত ওই দুই প্রার্থী অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটিতে ‘অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর’ এবং ‘কম্পিউটার ও ল্যাবশপ সহকারী’ পদে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাসে অধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলাম নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে এবং সরাসরি ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে কয়েক দফায় ১৯ লাখ টাকা নেন। কিন্তু চাকরি প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার পর আবার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে অঙ্গীকার করার পরও তিনি টাকা ফেরত দিতে পারেননি।

টাকা ফেরতের সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি আরও কালক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে ওই দুই প্রার্থীর সঙ্গে তিনি অসদাচরণ এবং হুমকি দেওয়া শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি টাকা দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। চাকরির প্রত্যাশায় টাকা দেওয়া ইউনিয়নের খামার তৈয়বপুর গ্রামের গৃহবধূ বলেন, ‘শতভাগ নিশ্চিত চাকরি’র কথা বলে অধ্যক্ষ জাহিদুল দফায় দফায় টাকা গ্রহণ করে এখন চাকরি দিতে পারছেন না। বরং নানান টালবাহনা শুরু করেছেন। এত টাকা প্রদান করেও চাকরি না পাওয়ায় বর্তমানে আমার পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছে।

চাকরি প্রত্যাশী অপরজন বলেন, আমার ‘চাকরি নিশ্চিত’ বললে ঢাকার চাকরি ছেড়ে চলে আসি। অধ্যক্ষ জাহিদুলের কথায় গত দুই বছর ধরে বাড়িতে বেকার আছি। এখন আমার চাকরির বয়সও শেষ। অধ্যক্ষের কাছে টাকা চাইলে কালক্ষেপণ ও নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি লিগ্যাল নোটিস পেয়েছেন বলে জানান। তবে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা গ্রহণের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, রোমেলের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ধার নিয়েছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম দুজন চাকরি প্রত্যাশীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনা ইউএনওকে অবগত করা হয়েছে। তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন ভুঁইয়া বলেন, দুজনের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।