সাংবাদিকদের অ্যাটর্নি জেনারেল

মামলাজট কমানোই বড় চ্যালেঞ্জ

ধর্ষণের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করা হলে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে বলে মনে করেন নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। গতকাল রবিবার প্রথম কর্মদিবসে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মামলাজট কমানোই এখন বিচার বিভাগের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

রাষ্ট্রের ষোড়শ অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে গতকাল সকালে দায়িত্ব বুঝে নেন অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন। প্রথমে দপ্তরে বসে আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশ নেন তিনি। আদালতের কার্যক্রম শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু দিন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৭ সেপ্টেম্বর মারা যান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গত ৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিনকে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমার মনে হয়, যারা এ ধরনের (ধর্ষণ) অপরাধ করে, এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করলে তারা সাবধান হবে। এ অপরাধ করতে তারা তখন অনেকবার ভাববে। সরকারের এই উদ্যোগটা যখন আইনে পরিণত হবে, তখন এ ধরনের অপরাধ অনেকখানি কমে যাবে।’ সহকর্মীদের সঙ্গে বসে বিচারাধীন নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলা সচল করার উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে আমিন উদ্দিন বলেন, ‘বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মামলাজট কমানো। এই জট কমানো হচ্ছে বিচার বিভাগে আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ। প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করব, যেসব পুরনো মামলা রয়েছে সেগুলো নিষ্পত্তি করতে বেঞ্চগুলোকে যেন বিশেষ নির্দেশনা দেন। তাছাড়া বিভিন্ন জেলায় যেসব বিচারাধীন মামলা স্থগিত হয়ে আছে সেগুলো দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিতে পাবলিক প্রসিকিউটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করব।’ 

তিনি বলেন, ‘অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে আমি আপনাদের (গণমাধ্যমকর্মী) সহযোগিতা চাই। আপনারা যদি তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন, তাহলে দুর্নীতি বন্ধ করা অনেক সহজ হবে। যেকোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করব।’

দুই অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘উনারা হয়তো অনেক দিন কাজ করেছেন, ব্যক্তিগত কোনো সমস্যার কারণে হয়তো আর থাকছেন না। আমার সাথে উনাদের কথা হয়নি। এখন সরকার যদি তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাহলে অবশ্যই আরও দুজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেবে।’