ফেনীতে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৩ জনের

ফেনীর সদর উপজেলায় বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন। গতকাল রবিবার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফতেহ রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন হলেন কুমিল্লার তাজুল ইসলামের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৯)। বাকিদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহতদের ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে ঢাকায় ও একজনকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।

শহিদুল্লাহ নামে প্রত্যক্ষদর্শী এক বাসযাত্রী জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা এন আর শ্যামলী পরিবহনের ওই বাসটি কুমিল্লার নুর জাহান হোটেলে সাময়িক বিরতির পর পুনরায় যাত্রা শুরু করে। ভোর সোয়া ৬টার দিকে গভীর ঘুমে থাকা অবস্থায় প্রচণ্ড শব্দে ঘুম ভাঙে তার। এরপর দেখেন বাসটি উল্টে আছে। অনেকেই ঘুমে আচ্ছন্ন থাকায় বাসের ড্রাইভারের কোনো গাফিলতি আছে কি না তা জানা যায়নি। শরীফ উদ্দিন নামে বাসের আরেক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘কুমিল্লায় যাত্রাবিরতি শেষে হেলপারকে বাস চালাতে দিয়ে পেছনে ঘুমিয়ে পড়েন বাসচালক। বাসটি ওভারপাস দিয়ে না গিয়ে নিচ দিয়ে যাওয়ার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।’

এদিকে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে ফতেহপুর রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত গেইটম্যান আবুল কালামের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে সে। তাকে নিয়ে বিপরীতমুখী বক্তব্য পাওয়া গেছে। ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী প্রকৌশলী রিটন চাকমার দাবি, বাসটিকে ইশারা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন গেইটম্যান আবুল কালাম। কিন্তু বাসচালক সিগন্যাল অমান্য করে ভেতরে ঢুকে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফেনী রেলওয়ে থানার ইনচার্জ এসআই মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গেইটম্যানকে পাইনি। হয়তো দুর্ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিল সে, পরে পালিয়ে যায়।’ তিনি আরও জানান, ফতেহপুর রেলক্রসিং এলাকায় ওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও বাসটি কেন নিচ দিয়ে গেছে, সেটি এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় লাকসাম জিআরপি থানায় একটি মামলা করা হবে।

এদিকে গতকাল ভোরে কক্সবাজারের সদর উপজেলায় পর্যটকবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। নিহতরা হলেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদ মুরাদ (৩০) ও কালা ভান্ডারি (৪০)। এ ছাড়া একইদিন দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় মুরাদ আহমেদ রনি (৩০) নামে মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবক নিহত হয়েছেন।

চকরিয়া মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোরশেদুর রহমান জানান, নোয়াখালী থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটকবাহী নীলাচল পরিবহনের ওই বাসটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ইসলামাবাদ ওয়াহের পাড়া এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে মুরাদ ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভান্ডারির মৃত্যু হয়।

সুনামগঞ্জের অপর ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত রনি সিলেট পৌর শহরের হাছননগর এলাকার গুলেনুর আহমদের ছেলে। গতকাল দুপুর ৩টার দিকে মালবাহী ট্রাকটি সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক দিয়ে শহরে প্রবেশের সময় একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।