সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মোবাইল চুরির অভিযোগ এনে এক যুবককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এক সপ্তাহ আগে উপজেলা চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া পুরান পুঞ্জি গ্রামের কাজল মিয়ার ছেলে ঝুনু মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ।
অভিযোগ ও নির্যাতনের শিকার যুবকের পরিবারের লোকজন জানান, উপজেলা চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া পুরান পুঞ্জি গ্রামের কাজল মিয়ার ছেলে ঝুনু মিয়ার (২৪) একটি মোবাইলফোন চুরি হয়। ঝুনু মিয়া একই গ্রামের দরিদ্র হারুন মিয়ার ছেলে সুবেল মিয়ার (২৪) বিরুদ্ধে তার মোবাইল চুরির অভিযোগ আনে। এরপর ১০ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে ঝুনু মিয়ার নেতৃত্বে একদল যুবক সুবেল মিয়াকে তার বসতবাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রেখে হাত,পা বেঁধে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। আহতাবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়া হয়।
নির্যাতনের শিকার সুবেল মিয়া বলেন,‘বখাটেরা আমাকে বাড়ি তুলে নিয়ে গিয়ে আটককে রেখে বলে, সিলেটের বিশ্বনাথের এক কবিরাজ বলেছে- মোবাইলফোন আমি চুরি করেছি। কবিরাজের কথায় ঝুনুর নেতৃত্বে বখাটেরা আমার হাত-পা বেঁধে টানা তিন ঘন্টা শরীরিক নির্যাতন করেছে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে আমার শরীরের বিদ্যুতের শক দেওয়া হয়। আমি এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
সুবেলের বাবা দরিদ্র হারুন মিয়া বলেন, বখাটে ঝুনু মিয়ার নেতৃত্বে তার দলবল নিয়ে আমার ছেলেকে জোর করে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি ঘরে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালায়। আমি স্থানীয় ইউপিসদস্যসহ এলাকার লোকজনকে নিয়ে আমার ছেলেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। এ ব্যাপারে আমি রোববার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার এএসআই মুক্তার আলী বলেন, ‘অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’