অহেতুক কারাভোগ করা হাবিবুর মুক্তি পেয়েছেন

দুজনের নামই হাবিবুর রহমান। তবে বাবার নাম নূর মোহাম্মাদ মাস্টার এবং নূর মোহাম্মাদ পন্ডিত। বাবার নামের শেষাংশে ‘মাস্টার’ এবং ‘পন্ডিত’ এর পার্থক্য পুলিশ এবং আদালত ধরতে না পারায় সাতদিন জেল খেটেছেন নির্দোষ অশীতিপর হাবিবুর রহমান।

বিনা অপরাধে সাতদিন জেলের ঘানি টানার পর গত রবিবার বৃদ্ধ হাবিবুর রহমানকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পটুয়াখালীর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল বাসার মিয়া। একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) করা চেক ডিজঅনার মামলায় নামের মিল থাকায় সাতদিন জেল খেটে ওইদিন মুক্তি পান নূর মোহাম্মাদ প-িতের ছেলে হাবিবুর রহমান (৮০)। অপরদিকে, প্রকৃত দ-প্রাপ্ত নূর মোহাম্মাদ মাস্টারের ছেলে হাবিবুর রহমানকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হাবিবুর রহমানের আইনজীবী মোজাম্মেল হোসেন তপন জানান, পুলিশের ভুলের কারণে একটি চেক ডিজঅনার মামলায় গলাচিপা পৌর এলাকার মুজিব নগর রোডের সাজাপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমানের জায়গায় পৌর এলাকার কলেজ পাড়ার বনানী এলাকার ৮০ বছরের হাবিবুর রহমানকে গত ৪ অক্টোবর দুপুরে গলাচিপা থানার এএসআই আল-আমিন তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেন। পরে ওইদিনই গলাচিপার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শান্তনু কুমার ম-লের মাধ্যমে তাকে পটুয়াখালী কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার সূত্রে  জানা যায়, গলাচিপা থানা সংলগ্ন সদর রোডের নাহার গার্মেন্টসের মালিক হাবিবুর রহমানের বাবার নাম নূর মোহাম্মাদ মাস্টার। তিনি গলাচিপা পৌর শহরের মুজিব নগর রোডের বাসিন্দা। ২০১২ সালের ৬ আগস্ট তিনি এনজিও ব্র্যাক থেকে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। পরে তিনি ব্র্যাকের অনুকূলে উত্তরা ব্যাংক গলাচিপা শাখায় নিজ হিসাব নম্বর থেকে ঋণের সমপরিমাণ অর্থের একটি চেক প্রদান করেন। কিন্তু ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ ২০১৩ সালের ১০ এপ্রিল ওই চেক ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তা ডিজঅনার হয়। পরে ব্র্যাক প্রথমে তাকে একটি লিগ্যাল নোটিস পাঠায় এবং পরে ২০১৩ সালের ১৯ জুন ঋণগ্রহীতা হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে।

ওই মামলায় পটুয়াখালীর যুগ্ম দায়রা জজ জিন্নাৎ জাহান ঝুনু ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ রায় প্রদান করেন। যাতে হাবিবুর রহমানকে ১ বছরের কারাদ- ও ঋণের দ্বিগুণ অর্থ পরিশোধের আদেশ দেওয়া হয়। রায়ের দিন হাবিবুর রহমান অনুপস্থিত থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় বৃদ্ধ হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

ব্র্যাকের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাজাভোগকারী হাবিবুর রহমানের পিতার নামও নূর মোহাম্মাদ পন্ডিত। 

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মাহফুজুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে দন্ডপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই আল-আমিনকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।