পাসপোর্ট বিক্রির হিড়িক

করোনাভাইরাস মহামারীতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। এই নাজুক অবস্থার মধ্যে বিভিন্ন দেশের ধনীরা তাদের নিরাপত্তা ও নিরাপদে থাকার কথা বিবেচনায় বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। বসে নেই বিভিন্ন দেশের দাগি আসামিরাও। সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আসামিদের কাছে ইউরোপের পাসপোর্ট বিক্রির একটি চক্রের বিস্তারিত প্রকাশ পায়।

সাইপ্রাসের একদল কর্মকর্তা; এদের মধ্যে রাজনীতিক, আইনজীবী, আবাসন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আরও অনেক উচ্চপদস্থ ব্যক্তি আছেন যারা সবাই অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন দেশের অপরাধীদের কাছে ইউরোপিয়ান পাসপোর্ট বিক্রি করে আসছেন অর্থের বিনিময়ে। নিয়ম না থাকলেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ওই কর্মকর্তারা সাইপ্রাসের পাসপোর্ট বিক্রি করছেন। সাইপ্রাস যেহেতু ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ, ফলে যেকেউ অর্থের বিনিময়ে সাইপ্রাসের পাসপোর্ট পেলে ইউরোপের যেকোনো দেশে বাস করতে পারেন। কারণ ইউরোপের মধ্যে এখনো ভিসা ছাড়াই যাতায়াত করা যায়।

পাসপোর্ট বিক্রির সঙ্গে জড়িত এমন কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন সাইপ্রাসের পার্লামেন্টের স্পিকার দিমিত্রিস সাইলোরাস এবং পার্লামেন্টের সদস্য ক্রিশ্চিতাকিস জিওভানিস। জিওভানিস পার্লামেন্টের সদস্য ছাড়াও দেশটির সবচেয়ে বড় আবাসন ব্যবসার মালিক। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া দ্য সাইপ্রাস পেপার্সে ১৪০০ পাতার একটি নথি প্রকাশ পায়। সেখানে দেখা যায় কীভাবে আইনকে ফাঁকি দিয়ে অপরাধী ও পলাতক আসামিদের পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আলজাজিরার সংবাদিকরা সাইপ্রাস কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে কর্র্তৃপক্ষ প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কর্র্তৃপক্ষ জানায়, তারা কিছু ঘটনা বিবেচনায় আইনকে আরও কঠোর করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর অতীত ইতিহাস বিচেনায় আনা হবে।

সাইপ্রাসের নিয়ম অনুসারে যেকেউ আবাসন খাতে ২৫ লাখ ডলার বিনিয়োগ করলেই তাকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। শুধু পাসপোর্ট বিক্রিই নয়, প্রয়োজনে আবেদনকারীর নামও পরিবর্তন করে দেওয়া হয়, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। ২০১৩ সাল থেকে পাসপোর্ট দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হলে সাইপ্রাস ৭ বিলিয়ন ইউরো আয় করেছে। এই পরিমাণ অর্থ একটি দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পাসপোর্ট দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বৈধ হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর বিরোধিতা করছে শুরু থেকেই। ইইউর দাবি, সাইপ্রাস এভাবে পাসপোর্ট বিক্রি চালিয়ে যেতে থাকলে রুশ অর্থ বিভিন্ন ফ্রন্টের মাধ্যমে ইউরোপে প্রবেশ করবে।