নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ইলিয়াস হোসেন (৪৫) নামে এক সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যা করেছে মাদক কারবারিরা। গত রবিবার রাত ৮টার দিকে বন্দর উপজেলার আদমপুর জিওধরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলার আদমপুর জিওধরা এলাকার মজিবর মিয়ার ছেলে ইলিয়াস স্থানীয় দৈনিক বিজয় পত্রিকার নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করতেন। এ ঘটনায় গতকাল সকালে ইলিয়াসের স্ত্রী জুলেখা বেগম বাদী হয়ে আটজনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
এরই মধ্যে পুলিশ মামলার প্রধান আসামি আদমপুর এলাকার মৃত জামান মিয়ার ছেলে তুষার (২৮), একই এলাকা মিসির আলী (৫৩) ও মিন্নত আলী মিনাকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিরা হলো তুর্য (২৫), মাসুদ (৩৫), সাগর (২৬), পাভেল (২৫) ও আলী (৫০)।
বিজয় পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাব্বির আহমেদ জানান, ইলিয়াস তার পত্রিকার সংবাদদাতা ছিলেন। পত্রিকায় স্থানীয় মাদক কারবারি ও অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে একাধিকবার নিউজ হয়। এ নিয়ে মাদক কারবারিরা ইলিয়াসের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। রবিবার রাত ৮টার দিকে ইলিয়াস বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য তুষার ও তুর্যের নেতৃত্বে চার-পাঁচজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে ইলিয়াসের ওপর হামলা চালায়। তারা ইলিয়াসকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে আটকে ছুরিকাঘাত করে। এতে ইলিয়াসের বুকে ও পিঠে চার-পাঁচটি আঘাত লাগে। ইলিয়াসের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ সার্কেল) খোরশেদ আলম জানান, রবিবার রাতে বন্দরের আদমপুর এলাকায় তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিরা সাংবাদিক ইলিয়াসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। আশপাশের লোকজন উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মূল আসামি তুষারকে রক্তমাখা টি-শার্ট পরা অবস্থায় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো ছুরিসহ আটক করে পুলিশে দিয়েছেন এলাকাবাসী। পরে পুলিশ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে। অন্যদের ধরতে চিরুনি অভিযান চলছে বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা খোরশেদ আলম।
বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার তিনজনকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে বিচারক তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।