মির্জা ফখরুলের বাসায় হামলা

সরকারকে দায়ী করে বহিষ্কার করা হলো দলের ১১ নেতাকে

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসায় ঢিল ও ডিম ছোড়ার ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারকে দায়ী করা হয়েছিল। তবে এ ঘটনার একদিন পর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে নিজ দলের ১১ নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর উত্তরের দপ্তর সম্পাদক এ বি এম এ রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে দলের গঠনতন্ত্রের ৫(গ) ধারা অনুযায়ী ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন থানার ১১ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেছেন।

বহিষ্কার নেতারা হলেন- দক্ষিণখান থানা বিএনপির সহসভাপতি ফুল ইসলাম, দক্ষিণখান থানা বিএনপির সদস্য নাজিম উদ্দিন দেওয়ান, দক্ষিণখান থানার ৫০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ, একই ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোখলেছ, দক্ষিণখান থানা বিএনপির সদস্য আমজাদ হোসেন, উত্তরা পূর্ব থানার সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম, উত্তরখান থানা বিএনপির সদস্য নূর মোহাম্মাদ, উত্তরা-পূর্ব থানা যুগ্ম সম্পাদক এম এ হান্নান, একই থানার দপ্তর সম্পাদক হাবিবুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক আব্দুল কাদের স্বপন ও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশীদ।

ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়নবঞ্চিত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি কফিল উদ্দিনের সমর্থকরা গত শনিবার বিকেলে উত্তরায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসার সামনে অবস্থান নিয়ে দলটির মনোনীত প্রার্থী এস এস জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে সেøাগান দেন। এছাড়া তারা মহাসচিবের বাসভবনে ঢিল ও ডিম  ছোড়েন।

মহাসচিব যখন দলের স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় যুক্ত ছিলেন তখন এ হামলা হয়। স্থায়ী কমিটির সভা শেষে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারদলীয় লোকজন এ হামলা চালিয়েছে। 

রবিবার এস এম জাহাঙ্গীর উত্তরায় দলের মহাসচিবের বাসায় গিয়ে হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার অঙ্গীকার করেন। এ সময় জাহাঙ্গীর ও বৃহত্তর উত্তরার সাতটি থানার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।