করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের শঙ্কা

চীনে করোনাভাইরাস প্রথম চিহ্নিত হওয়ার পর নয় মাস পার হয়েছে। বিশ্বব্যাপী এর তীব্রতা কমে গেলেও মহামারীটি এখনো রয়ে গেছে এবং মানুষের মৃত্যুর খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে। ‘ওয়ার্ল্ডোমিটার’ আমাদের জানাচ্ছে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত সারা বিশ্বে চিহ্নিত হয়েছে ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৬১ জন মানুষ, যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর মাঝে মারা গেছে ১০ লাখ ৭৭ হাজার ৪৫৮ জন। সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে (২ লাখ ১৯ হাজার ২৮২ জন)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে করোনাভাইরাস পরিপূর্ণভাবে নির্মূল করা যাবে না এবং একটি ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ ইতোমধ্যেই আঘাত হানতে শুরু করেছে (ডয়চে ভেলে)। ‘ইউরোনিউজ’ গত ৯ অক্টোবর জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ এরই মধ্যে আঘাত হানতে শুরু করেছে। তারা  কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের নামও উল্লেখ করেছে, যেখানে ভাইরাসটি আঘাত হেনেছে। ব্রিটেনের মতো দেশও এই তালিকায় রয়েছে। এদিকে আবারও ‘লকডাউনের’ মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বা হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা।

বাংলাদেশেও এই ভাইরাসটি পরিপূর্ণভাবে নির্মূূল হয়েছে, তা বলা যাবে না। ১০ অক্টোবরের খবর ‘বাংলাদেশে পৌনে ৪ লাখ ছড়াল শনাক্ত রোগীর সংখ্যা।’ তবে মৃত্যুহার কমেছে। এ যাবত বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা ৫ হাজার ৪৭৭ জন। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ২৩ সেপ্টেম্বর আমাদের জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ বাংলাদেশে আঘাত হেনেছে। এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ‘দ্বিতীয় ঢেউ’-এর আশঙ্কার কথা আমাদের জানিয়েছিলেন (বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২৩ সেপ্টেম্বর)। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও আশঙ্কা করেছিলেন যে, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে ‘দ্বিতীয় ঢেউ’-এ মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না, সর্বত্র একটা ঢিলে-ঢালা ভাব, মানুষ গাদাগাদি করে বাসে ভ্রমণ করছেন, মার্কেটগুলোতে মানুষের ভিড় সব মিলিয়ে বাংলাদেশ নিয়ে একটা ভয়ের কারণ থাকলই।

যেহেতু করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এটা এখন প্রমাণিত যে, করোনাভাইরাসের কারণে শুধু অর্থনীতিই নয়, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরেই তা আঘাত করেছে। আমরা কিছু পরিসংখ্যান দিতে পারি, যাতে করে নীতিনির্ধারকরা একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

কভিড-১৯-এর কারণে বিশ^ অর্থনীতিতে এর একটা প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার সমস্যা বেড়েছে। শিল্পোন্নত দেশগুলোতে বেকার সমস্যা কীভাবে বেড়েছে, তার একটা চিত্র তুলে ধরা যেতে পারে। জাপানে বেকারত্ব বেড়েছে ২.৪ ভাগ থেকে ৩ ভাগ, জার্মানিতে ৩.২ ভাগ থেকে ৩.৯ ভাগ, যুক্তরাজ্যে ৩.৮ ভাগ থেকে ৪.৮ ভাগ, কানাডাতে ৫.৭ থেকে ৭.৫, ফ্রান্সে ৮.৫ থেকে ১০.৪, ইতালিতে ১০ থেকে ১২.৭ ও যুক্তরাষ্ট্রে ৩.৭ থেকে ১০.৪ ভাগ (বিবিসি, ৩০ জুন ২০২০)। শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যে ১৯ ভাগ কর্মচারী দীর্ঘ ছুটিতে গেছেন, জার্মানিতে এই সংখ্যা ২৩ ভাগ, ইতালিতে ২৯ ভাগ, আর ফ্রান্সে ৪১ ভাগ। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে কভিড-১৯ জনিত কারণে ৮৮ থেকে ১১৫ মিলিয়ন মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমার মধ্যে পতিত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী বছর এই সংখ্যা ১৫০ মিলিয়নে উন্নীত হবে বলে সংস্থাটির ধারণা। বিশ্বব্যাংকের ৭ অক্টোবর (২০২০) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত ১০টি দেশের মাঝে ৮টি দেশই নতুন করে ‘গরিব দেশ’ (নিউ পুওর) এর কাতারে চলে যাবে।

বিশ^ব্যাংক ১৯৯০ সাল থেকেই বিশ্বের দারিদ্র্যের পরিসংখ্যান দিয়ে আসছে। ২০২০ সালে যে ডেটা তারা দিল, তাতে দুই দশকের মাঝে বড় ধরনের পতন। সংস্থাটির মতে, যাদের আয় দিনে ১ দশমিক ৯০ ডলারের নিচে, তাদের চরম দরিদ্র হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তাদের মতে কডিভ-১৯-এর কারণে দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারা আফ্রিকার দেশগুলো চরম দারিদ্র্যের মাঝে পড়বে এবং একই সঙ্গে আয়ের ক্ষেত্রে একটা বৈষম্য তৈরি করবে। বিশ্বব্যাংকের মতে, বিশে^র ৭২৯ মিলিয়ন মানুষকে (মোট জনসংখ্যা ৭ দশমিক ৫৯৪ মিলিয়ন, ২০১৮) বছরে মাত্র ৭০০ ডলার আয় নিয়ে বসবাস করতে হবে (২০২০)। অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় বছরে ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা, আর মাসে ৪ হাজার ৯৫৮ টাকা আয় নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে। যদিও বিশ^ব্যাংক আশা করছে ২০৩০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য তারা ৩ ভাগে নামিয়ে আনতে পারবে। কিন্তু চলমান ট্রেন্ড হচ্ছে আগামী ১০ বছর পর্যন্ত চরম দারিদ্র্যের হার ৬.৭ ভাগ। আমরা দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির নিম্নগামিতার একটা চিত্র দিতে পারি। এখানে অর্থনীতি সংকোচন হবে ৭.৭ ভাগ। ভারতে অর্থনীতির সংকোচন হবে ৯.৫ ভাগ। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে যে ধস নামবে, তা আগে প্রাক্কলন করা হয়নি। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা  বেশি (সাউথ এশিয়া জার্নাল; ৮ অক্টোবর, ২০২০)। কভিড-১৯-এর কারণে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়বে। লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন ইতোমধ্যে। কর্মসংস্থানের সুযোগও কমে এসেছে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ চরম দারিদ্র্যের দিকে চলে যাচ্ছে। তবে প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থাকছে বাংলাদেশ। ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ১.৬ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি হবে ০.৫ শতাংশ। আর দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে ভারত। তাদের প্রবৃদ্ধি হবে মাইনাস ৯.৬ শতাংশ। তুলনামূলক বিচারে বাংলাদেশের অবস্থা কিছুটা ভালো।

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কেন কমে যাবে, তারও একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তাদের মতে, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রপ্তানিতে। প্রবাসী আয়েও ধাক্কা লেগেছে। অনেক প্রবাসী করোনার কারণে দেশে এসে আর যেতে পারছেন না। সৌদি আরব একটা বড় প্রমাণ। শিল্প-কারখানায় উৎপাদন কমেছে ৭০ শতাংশের মতো। স্থবির হয়ে গেছে কর্মসংস্থান। এসব কারণে চলতি অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি ১.৬ শতাংশ অর্জিত হবে। যদিও বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অর্থনীতির বর্তমান উত্তরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী। করোনাপরবর্তী বিশ্বে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাবে বেশি, তার মাঝে অন্যতম হচ্ছে এই অর্থনীতি। অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়েই পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। অর্থনীতির সঙ্গে বৈষম্যের প্রশ্নটিও জড়িত। করোনার কারণে বিশ্বের সর্বত্র ধনী ও গরিব শ্রেণির মাঝে একটি বড় বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। করোনার কারণে কিছু মানুষ ধনী হয়েছে, কিছু মানুষ গরিব হয়েছে। ইউএনডিপি বলছে মানুষের মাথাপিছু আয় ৪ ভাগ কমেছে। আইএলও’র মতে, কর্মজীবী মানুষের মাঝে অর্ধেক কর্মজীবী মানুষ চাকরি হারাবে। বিশ্বে করোনার কারণে ক্ষতি হবে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি। ২৬৫ মিলিয়ন মানুষ দুর্ভিক্ষের শিকারে পরিণত হবে যদি না দ্রুত অ্যাকশন নেওয়া হয় এটা বিশ্ব খাদ্য সংস্থার অভিমত। আইএলও’র মতে ৪০০ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছে, কেননা বেঁচে থাকার জন্য তাদের এমন সব কাজ করতে হচ্ছে, যার জন্য তারা তৈরি হননি।

কভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় যে ত্রুটি রয়েছে, তা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাতেও যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে, তাও আমাদের জানাচ্ছে ইউএনডিপি। উন্নত বিশ্বে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য রয়েছে ৫৫ হাসপাতাল শয্যা (হাসপাতাল বেড), ৩০ জন ডাক্তার, আর ৮১ জন নার্স। আর উন্নয়নশীল বিশ্বে? সেখানে ১০ হাজার লোকের জন্য রয়েছে ৭টি হাসপাতাল বেড, ২.৫ জন ডাক্তার, আর ৬ জন নার্স। তাই করোনাভাইরাস দেখিয়ে দিল স্বাস্থ্যসেবার দিকে কেন বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তারপরও আফ্রিকার দরিদ্রতম দেশগুলোতে করোনাভাইরাস বড় আঘাত হানতে পারেনি। প্রাপ্ত তথ্য মতে শতকরা ৫৬ ভাগ মানুষ, যারা আফ্রিকায় ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে বসবাস করে, মাত্র ৩৪ ভাগ মানুষের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেছে, আর শতকরা ৭১ ভাগ মানুষের সুনির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই এবং তারা সাধারণ কাজকর্ম করে জীবন ধারণ করে, সেখানে করোনা বড় আঘাত করতে পারেনি। তবে জাতিসংঘ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এ অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। Statista-এর তথ্য মতে বিশ্বের জনসংখ্যার মাঝে ১ বিলিয়ন মানুষ কোনো না কোনোভাবে দারিদ্র্যের পর্যায়ে চলে যাবে। এর মাঝে ২৩৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলভুক্ত, ১২৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন দক্ষিণ এশিয়া, ৫৪ দশমিক ৩ মিলিয়ন লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান, ৪৪ দশমিক ৯ মিলিয়ন মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা, ৪৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন সাব-সাহারা, ৩০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া এবং ৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন অন্যান্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত (এপ্রিল ৬, ২০২০)। এই পরিসংখ্যান আমাদের নীতিনির্ধারকদের আদৌ কোনো চিন্তার খোরাক জোগাবে কি-না, সেটাই বড় প্রশ্ন।

বিশ্ব আর আগের মতো থাকবে না, বদলে যাবে বিশ্ব। কভিড-১৯ বিশ্বকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। এক ‘নতুন পৃথিবী’ আমরা প্রত্যক্ষ করব, যেখানে করপোরেট হাউজগুলোর প্রভাব কম থাকবে, বিশ্বায়নের কারণে বিশ্ব যে উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল, তাতে এখন বাধানিষেধ আসবে, সর্বোপারি যুক্তরাষ্ট্রের একক কর্তৃত্ব করার যে প্রবণতা আমরা লক্ষ করেছিলাম, তা আর থাকবে না। কভিড-১৯ মোকাবিলায় পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যেখানে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিল, সেখানে চীনের সাফল্য ছিল চোখে লাগার মতো। চীনে এই ভাইরাসের প্রথম আবির্ভাব হলেও চীনই সাফল্যের সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। তাই  Inter Press Service-এ মন্তব্য করা হয়েছে এভাবে ‘China along with developing countries in Asia & Africa that have better weathered COVID storm, will likely increase their global footprint at a much faster rate that they have been doing in Past decades’ (October 5, 2020)|

অর্থাৎ চীন বিশ্বে তার প্রভাব বাড়াবে। তবে চীনের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বয়ং চীনবিরোধী একটি ‘অবস্থান’ নিয়ে বিশ^ব্যাপী চীনবিরোধী একটি অ্যালায়েন্স গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। যেকোনো বিবেচনায় এই উদ্যোগ কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে না। করোনাপরবর্তী বিশে^ চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং আহ্বান জানিয়েছেন সহযোগিতার, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা চীনবিরোধী। আরো ভালো খবর হচ্ছে চীন ‘কোভেক্সে’ যোগ দিয়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী করোনা টিকা সরবরাহ করা হবে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগের সঙ্গে নেই। এমনি এক পরিস্থিতিতে আমাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করাটা জরুরি।

লেখক অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

tsrahmanbd@yahoo.com