নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন

বেগমগঞ্জের ওসি প্রত্যাহার, কালামের দায় স্বীকার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ চৌধুরীকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) কার্যালয়ে সংযুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ডিআইজি কার্যালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এ কথা জানানো হয়। বেগমগঞ্জের একলাশপুরে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার পর স্থানীয় থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে ওসি হারুনুর রশিদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এলো।

এদিকে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আসামি আবুল কালাম গতকাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার আসামি শামছুদ্দিন সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

বেগমগঞ্জ থানার ওসিকে প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) দীপক জ্যোতি খীসা গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডিআইজি অফিস থেকে পাঠানো পত্রে ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরীকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে ডিআইজি অফিসে যোগদান করতে বলা হয়। আজ (গতকাল মঙ্গলবার) এ আদেশ পাওয়ার পরপরই তা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। ওসি হারুনের নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

বেগমগঞ্জ থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে কি-না এবং কী কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো কারণ উল্লেখ না করে দীপক জ্যোতি খীসা বলেন, ‘প্রত্যাহার নয়, তাকে চট্টগ্রাম ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।’

আদালতে দায় স্বীকার কালামের : নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার ৩ নম্বর আসামি আবুল কালাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল বিকেলে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মাসফিকুল হক ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি নথিভুক্ত করেন।

সুমন চার দিনের রিমান্ডে : নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার ছয় নম্বর আসামি শামছুদ্দিন সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল তাকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মাসফিকুল হকের আদালতে উপস্থাপন করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দুই মামলায় দেলোয়ার শ্যোন অ্যারেস্ট: নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার মূলহোতা দেলোয়ার বাহিনী প্রধান দেলোয়ার হোসেনকে নির্যাতনের শিকার ওই নারীর করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলতাফ হোসেন জানান, দেলোয়ারকে সকাল সাড়ে ১১টায় আদালতে উপস্থাপন করে দুই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই নোয়াখালী কার্যালয়ের পরিদর্শক মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী। এ বিষয়ে শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মাসফিকুল হক তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করে দেলোয়ারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে নির্যাতনের শিকার নারীর করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগের পক্ষে তার আইনজীবী গতকাল আদালতে জামিন আবেদন করলেও বিচারক তা নাকচ করে দেন।