বাংলাদেশের জলসীমায় বিদেশিরা মাছ ধরতে পারবে না: পানিসম্পদমন্ত্রী

বাংলাদেশের জলসীমায় কোনো বিদেশি নাগরিক মাছ শিকার করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মৎস ও প্রাণীসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বুধবার দুপুরে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুরে মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন করতে এসে তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই হুঁশিয়ারি দেন।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে কী হয়েছে জানি না। এখন থেকে কোনোভাবেই দেশের অভ্যন্তরে কোনো বিদেশী জাহাজকে অবৈধভাবে মৎস্য আহরণে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। ইতিমধ্যে অবৈধভাবে প্রবেশ করা মাছ ধরায় অনেক বিদেশী জাহাজ ও ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। এসব নৌযানে যারা ছিল তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের জলসীমানা পাহাড়া দিতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড কাজ করছে, যাতে করো নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কেউ ইলিশ শিকার করতে না পারে। আমরা ডেলিগেট হিসেবে মনিটর করছি।

রেজাউল করিম বলেন, দেশে প্রতিবছর ইলিশের উৎপাদন ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইলিশ উৎপাদনের এই ধারা অব্যাহত রাখতে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম সফল করতে হবে। সেজন্য জেলে, সাধারণ মানুষ, প্রশাসন, পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এর আগে ২২ দিনব্যাপী মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম সফল করতে জনসচেতনতায় মেঘনা নদীতে একটি নৌ-র‌্যালি বের হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শামস আফরোজ, মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ, নৌ পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান,  জেলা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান, মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এম এ কুদ্দুস, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল্লাহ বাকি প্রমুখ।

বুধবার থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীসহ দেশের  পাঁচ অভয়াশ্রমে ২২ দিন ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকার বন্ধ থাকবে। এ নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা, পরিবহন, বিক্রি ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

চাঁদপুর  জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী বলেন, চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনা নদীতে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত রয়েছে ৫১ হাজার ১ শ ৯০ জেলে। এ বছর নিষেধাজ্ঞার সময়টাতে ৫০ হাজার জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়ে যাবে। এ বছর সর্বোচ্চ পরিমানে জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। জেলেদের সহায়তা প্রদানে কেউ অনিয়ম করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, সরকারের এই আদেশ অমান্য করে ইলিশ মাছ আহরণ ও বিক্রি করলে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে।